
মোঃ ইয়াকুব আলী তালুকদার স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর
গ্রাম বাংলার চিরচেনা আর প্রাচীন ঐতিহাসিক পেশা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের কঠোর দিনমজুর কাঠুরিয়া পেশা।
আদিম ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন পেশা আর বনজঙ্গল থেকে কাঠ কেটে এনে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করাই ছিল এই পেশার মুল কাজ। বন থেকে গাছ কেটে এনে কড়াত দিয়ে টেনে টেনে তক্তা,পাইর, বাটাম ও বিভিন্ন সাইজের কাঠ তৈরী করতেন মানুষের ব্যবহার উপযোগী করে। আর লাকড়ী জ্বালানি হিসেবে চুলায় ব্যবহার করতেন।
পরবর্তীতে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই পেশায় জরিয়ে পড়ে অসংখ্য মানুষ। বিভিন্ন গাছ, গাছের ডালপালা কেটে লোহার কুড়াল দিয়ে ফেড়ে তা বিক্রি করাই হয়ে উঠে ছিল তাদের কাজ।
শারিরীক কঠোর পরিশ্রম আর কাঠ কাঁটার কৌশল শুধু তাদেরই জানা। কিন্তু পরিশ্রমের তুলনায় তাদের পারিশ্রমিক একেবারেই সামান্য। বৈষম্য আর দূর্গতির চরম নিদর্শন এই পেশায় জরিত মানুষ।
বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কাঠ চেড়াই মিল “স” মিলে খুব সহজে দ্রুত সময়ে কাঠ চেড়াই করার ফলে তা আজ বিলুপ্ত। দ্রুত এবং সহজে এই কাজ গুলো হয়ে যাওয়ার ফলে তাদের কদোর একেবারে নেই বললেই চলে।
এখন শুধু অল্প সংখ্যক মানুষ এই পেশায় নিয়োজিত, জীবন জীবিকা আর কাজের স্বল্পতা এবং স্বল্প মজুরি হওয়ায় তাদের জীবন জরাজীর্ণ আর দূর্ভীক্ষে ঘেরা। তারা শুধু গাছ কেটে, গাছের ডাল কেটে লাকড়ি তৈরী করে দৈনিক মজুরি পান। কোনমতে জীবন সংসার চালান।
গাজীপুরের মাধবপুরে এমন একজন বয়স্ক মানুষের দেখা মেলে। তিনি বলেন সারা দিন কঠোর পরিশ্রম করে কাঠ কেটে দিনে ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পাওয়া যায় কিন্তু পরিশ্রমের তুলনায় তা খুবই কম। আবার নিয়মিত এই কাজ হয় না। সারা মাস বসেই থাকতে হয় না হলে অন্য কাজ করতে হয়। মাসের মধ্যে এক দুই সপ্তাহ হয় এ দিয়েই কোনমতে সংসার চালাতে হয়। এজন্য স্থানীয় ও সরকারের সহযোগিতা পেলে তাদের জীবনেও অনাবিল আনন্দ ফিরে আসতো।