
শাহিন আলম টেকনাফ//
প্রিয়জনের নিখোঁজ হওয়ার খবরে এভাবেই আহাজারি করছিলেন ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সাল। কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের পর থেকে তার স্ত্রী নাসরিন আক্তারের খোঁজ পাচ্ছিলেন না। স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
স্ত্রীকে হারানোর আশঙ্কায় বারবার বিলাপ করছিলেন দেওয়ান ফয়সাল।
তার কণ্ঠে ছিল প্রিয় মানুষকে ফিরে পাওয়ার আকুতি। স্ত্রীকে ছাড়া কীভাবে থাকবেন, সেই প্রশ্নই যেন তাকে বারবার তাড়া করছিল।
নাসরিন আক্তারের বাড়ি ঢাকার হাটবাজার এলাকায় বলে জানা গেছে। পূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান তিনি।
আনন্দের ভ্রমণ যে এভাবে উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তায় রূপ নেবে, তা কল্পনাও করেননি স্বজনেরা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে রিসোর্টে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এরপর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।
প্রথম দিকে অগ্নিকাণ্ডে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে উদ্ধার তৎপরতার একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মোরশেদ জানান, তারা ৯টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছিল। এ ঘটনায় ছয়জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, রিসোর্টটিতে ২৭ জন পর্যটকের প্রবেশের তথ্য ছিল। তাদের মধ্যে নয়জন রিসোর্টের বাইরে ছিলেন বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার। ফলে আগুন লাগার সময় ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও হতাহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছিল
আগুনে নিহতদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা আশিকুলের পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা হলেন—মেলিতা মেহেজাবিন আলভি, নাবিলা, মালিহা, মিলা, জেরিফ ও ফাইজান।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, হতাহতরা সবাই পর্যটক। প্রাথমিকভাবে রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।