
মাসুদ রানা, সাতক্ষীরা:
অশ্রুসিক্ত ও হৃদয়বিদারক পরিবেশের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাছখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক নয়ন চন্দ্র সানার অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের কর্মময় অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনে ১৪ মে (রবিবার) বেলা ১১টায় বিদ্যালয় হলরুমে এই বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিদায় অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন মাছখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাজান আলী।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষকের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন, তাঁর অবদান এবং আদর্শের কথা স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও গণমাধ্যমকর্মী সাংবাদিক মাসুদ রানা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল ওয়াারেস এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাজ্জাদ আলীস,ইব্রাহিম হোসেন,মেহেদী হোসেনসহ আরও অনেকেই। বক্তারা বলেন, নয়ন চন্দ্র সানা কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অভিভাবক ও আলোর দিশারী। তাঁর এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আর এস সালাম,সাকিব হাসানসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়লগ্নে সম্মাননা জানাতে ভুলেনি তাঁর স্নেহের ছাত্ররা।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের পক্ষ থেকে বিদায়ী শিক্ষক নয়ন চন্দ্র সানাকে একটি দৃষ্টিনন্দন সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাঁর হাতে বিভিন্ন ভালোবাসার স্মারক ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক আশরাফুজ্জামান খোকন।
উপহার আদান-প্রদান শেষে অনুষ্ঠানটিতে এক আবেগঘন ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রিয় শিক্ষকের চলে যাওয়ার মুহূর্তে হলরুম জুড়ে এক বিষাদময় নীরবতা নেমে আসে। অনেক শিক্ষার্থীকে এ সময় অশ্রুসজল চোখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।শিক্ষার্থীরা একে একে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে এবং ক্লাস চলাকালীন বা বিদ্যালয়ে কাটানো সময়ে অবচেতনমনে করা সব ভুলত্রুটির জন্য প্রিয় শিক্ষকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। শিক্ষক নয়ন চন্দ্র সানাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং অত্যন্ত স্নেহের সাথে সকল শিক্ষার্থীর ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তাদের আগামী দিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।সর্বশেষ ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে একটি প্রাইভেটকারের মাধ্যমে বাড়িতে পৌঁছায় দেন।