1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
সাংবাদিকদের নিপীড়ন নির্যাতন অত্যাচার বন্ধ করতে হবে - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হরিপুর সীমান্তে ১৬৫ বোতল মদ উদ্ধার ময়মনসিংহ মেডিকেলের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ-ক্যানুলা ময়লার গুদামে, উঠছে নানা প্রশ্ন সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের হাহাকার, দিনে মেলে মাত্র ৪ ঘণ্টা কয়েক দিন পরপর বাড়ে ইউনিটপ্রতি দাম ময়মনসিংহে বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন । পাবনায় ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪ বিয়ের নামে অভিনব প্রতারণা, নিজের স্ত্রী’কে কখনো মেয়ে কখনো ভাইঝি বলে একাধিক বিয়ে দেন স্বামী! কৌশলে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শান্তিপূর্ণ ভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উদযাপিত। উল্লাপাড়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে নাসির হোসেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের সঙ্গে তদারকি

সাংবাদিকদের নিপীড়ন নির্যাতন অত্যাচার বন্ধ করতে হবে

তাসলিমা রত্না ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫২ বার পঠিত

তাসলিমা রত্না ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

সাংবাদিক নির্যাতন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলা, হুমকি, হেনস্তা কিংবা হয়রানিমূলক মামলার ঘটনা কোনোভাবেই একজন সাংবাদিকের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একজন সাংবাদিক যখন জনগণের অর্থ, সরকারি সম্পদ, দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় অনুসন্ধান ও প্রকাশ করতে গিয়ে আক্রমণ বা আইনি হয়রানির শিকার হন, তখন তার ওপর আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারও আক্রান্ত হয়।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক স্বীকৃতি রয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও এই সাংবিধানিক অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে একজন সাংবাদিক আইন ও পেশাগত নীতিমালা মেনে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুসন্ধান ও প্রকাশ করার কারণে হামলা, ভয়ভীতি, হুমকি বা হয়রানির শিকার হলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; এটি সাংবিধানিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহির প্রশ্নও বটে।

এখানেই সাংবাদিক সংগঠনগুলোর দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। সাংবাদিক নির্যাতনের পর শুধু একটি বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। কোনো সাংবাদিক আক্রান্ত হলে সাংবাদিক সংগঠনকে প্রথমেই ঘটনার প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। কোথায়, কখন, কীভাবে ঘটনা ঘটেছে, সাংবাদিক তখন কী দায়িত্ব পালন করছিলেন, কারা জড়িত ছিল, কোনো ভিডিও, ছবি, অডিও, নথি বা প্রত্যক্ষদর্শী আছে কি না, মামলা হলে মামলার অভিযোগ কী এবং অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার সামঞ্জস্য কতটুকু, এসব বিষয় নথিভুক্ত করা প্রয়োজন।

কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলেই তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দোষ ঘোষণা করা যেমন দায়িত্বশীল সাংবাদিক সংগঠনের কাজ নয়, তেমনি অভিযোগ যাচাই না করেই সাংবাদিককে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করাও গ্রহণযোগ্য নয়। সংগঠনের দায়িত্ব হওয়া উচিত সত্য উদঘাটন করা এবং সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সঙ্গে মামলার সম্পর্ক থাকলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করা।

বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতি, সরকারি অর্থের অনিয়ম, ভূমি দখল, অবৈধ নির্মাণ, প্রশাসনিক অনিয়ম কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, হুমকি বা সামাজিকভাবে হেনস্তার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সংবাদ প্রকাশের আগে ও পরে সংঘটিত ঘটনাগুলোর সময়ক্রম, মামলার অভিযোগ এবং সাংবাদিকের প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নথিভিত্তিকভাবে যাচাই করা যেতে পারে।

সাংবাদিক সংগঠনগুলোর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো জরুরি আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা। কোনো সাংবাদিক গ্রেপ্তার হলে, থানায় হয়রানির শিকার হলে, মামলা হলে কিংবা হামলার ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়লে তাকে একা আইনি লড়াইয়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। সংগঠনের নিজস্ব আইন সহায়তা ব্যবস্থা, আইনজীবীদের একটি প্যানেল এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ, আইনি নোটিশ, নিরাপত্তার আবেদন এবং বিচারিক প্রতিকার গ্রহণের ক্ষেত্রেও সংগঠন সহযোগিতা করতে পারে।

একই সঙ্গে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর উচিত সাংবাদিক নির্যাতনের একটি জাতীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক ডাটাবেস তৈরি করা। কোন সাংবাদিক কখন হামলার শিকার হয়েছেন, কোথায় ঘটনা ঘটেছে, কী অভিযোগে মামলা হয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি কী, আদালতে মামলার অবস্থা কী এবং শেষ পর্যন্ত কী ফল হয়েছে, এসব তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা সহজ হবে। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা, আইন সংস্কার এবং সাংবাদিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রণয়নেও এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে সাংবাদিকদের নিজেদের পেশাগত দায়িত্বের বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই, নথি সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা, তথ্য ও মতামতের পার্থক্য বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। সাংবাদিকের স্বাধীনতা যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনি সাংবাদিকতার পেশাগত জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।

একটি সাংবাদিক সংগঠনের প্রকৃত শক্তি কতজন সদস্য রয়েছে তার মধ্যে নয়; বরং একজন সাংবাদিক বিপদের মধ্যে পড়লে সংগঠনটি কত দ্রুত, কতটা আইনসম্মত, তথ্যভিত্তিক ও কার্যকরভাবে তার পাশে দাঁড়াতে পারে তার মধ্যে। সংগঠন যদি শুধু সভা, সম্মেলন, বিবৃতি ও পরিচয়পত্র বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সাংবাদিকদের প্রকৃত পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

প্রয়োজনে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর যৌথভাবে একটি “সাংবাদিক সুরক্ষা ও আইন সহায়তা সেল” গঠন করা যেতে পারে। এই সেলের মাধ্যমে হামলা, হুমকি, মামলা, গ্রেপ্তার, পেশাগত হয়রানি এবং ডিজিটাল হয়রানির ঘটনা নথিভুক্ত করা, প্রাথমিক আইনগত পরামর্শ দেওয়া, প্রয়োজনীয় আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করানো, ঘটনার তথ্য যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা সম্ভব।

সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবিও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর অন্যতম প্রধান ভূমিকা হওয়া উচিত। কোনো সাংবাদিককে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে আক্রমণ করা হয়ে থাকলে হামলাকারী যে পরিচয়েরই হোক না কেন, আইনের আওতায় আনার দাবি তুলতে হবে। একইভাবে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সত্যিকারের অপরাধের অভিযোগ থাকলে সেটিও আইনসম্মত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাংবাদিক সংগঠনকে কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল, ক্ষমতাবান গোষ্ঠী কিংবা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নয়, সাংবাদিকের পেশাগত অধিকার, সত্য, আইন এবং জনস্বার্থের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। কারণ সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে রক্ষা করা নয়; বরং সমাজে প্রশ্ন করার অধিকার, ত

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park