1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
মহেশখালী থেকে মিয়ানমারে জ্বালানি পাচারের অভিযোগ, প্রশাসনের সিলগালা খুলে অনুমোদনহীন তেল বিক্রি - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হরিপুর সীমান্তে ১৬৫ বোতল মদ উদ্ধার ময়মনসিংহ মেডিকেলের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ-ক্যানুলা ময়লার গুদামে, উঠছে নানা প্রশ্ন সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের হাহাকার, দিনে মেলে মাত্র ৪ ঘণ্টা কয়েক দিন পরপর বাড়ে ইউনিটপ্রতি দাম ময়মনসিংহে বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন । পাবনায় ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪ বিয়ের নামে অভিনব প্রতারণা, নিজের স্ত্রী’কে কখনো মেয়ে কখনো ভাইঝি বলে একাধিক বিয়ে দেন স্বামী! কৌশলে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শান্তিপূর্ণ ভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উদযাপিত। উল্লাপাড়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে নাসির হোসেন, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের সঙ্গে তদারকি

মহেশখালী থেকে মিয়ানমারে জ্বালানি পাচারের অভিযোগ, প্রশাসনের সিলগালা খুলে অনুমোদনহীন তেল বিক্রি

সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬৬ বার পঠিত

সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটা-ঘটিভাঙ্গা এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ও সিলগালার পরও কয়েকটি কেন্দ্র ফের চালু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে এসব কেন্দ্রের কোনো কোনোটি থেকে নৌপথে জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগও করছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গত ১৯ আগস্ট তাজিয়াকাটা-ঘটিভাঙ্গা সরকারি খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে লাইসেন্সবিহীন পাঁচটি ভাসমান তেল বিক্রয়কেন্দ্র ও একটি তেলের দোকানসহ ছয়টি কেন্দ্র সিলগালা করে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের পর কিছুদিন তেল বিক্রি বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে সিলগালা করা কয়েকটি কেন্দ্রের তালা খুলে ফের কার্যক্রম চালুর অভিযোগ ওঠে।

সরেজমিনে কুতুবজোম-ঘটিভাঙ্গা সেতুর নিচে মেসার্স মদিনা ট্রেডিংয়ের সিলগালা করা স্থাপনার তালা খোলা অবস্থায় দেখা যায়। সেখানে থাকা এক কর্মচারী জানান, কয়েক দিন আগে হিসাবপত্র দেখার জন্য তালা খোলা হয়েছে। তার দাবি, সেখানে কোনো তেল বিক্রি হচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তাজিয়াকাটা-ঘটিভাঙ্গা এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত একাধিক তেল বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রের কয়েকটির বিরুদ্ধে নৌযানে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি তেল পাচারের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়ভাবে সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, রুকন উদ্দিন, রিমন মেম্বার, নজরুল ইসলাম ও শাহেদ আজিজ এর মালিকানাধীন কয়েকটি কেন্দ্রের নাম বলা হলেও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের আরও দাবি, তাজিয়াকাটা-ঘটিভাঙ্গা ও আশপাশের উপকূলীয় নৌপথে বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহন ও পাচারের অভিযোগে ফিশিং বোট আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে বলে তারা জানান। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে বর্তমান তেল বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা যায় না।

সরকারি খাল ঘেঁষে দাহ্য পদার্থের ঝুঁকি তেল বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি কেন্দ্র সরকারি খাল ও নৌপথসংলগ্ন এলাকায় ভাসমান বা অস্থায়ী স্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে জ্বালানি সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশ এবং নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আগুন দ্রুত নৌযান ও আশপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই শুধু তেল বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা নয়—জ্বালানি সংরক্ষণের অনুমতি, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং সরকারি জায়গা ব্যবহারের বৈধতাও যাচাই করা প্রয়োজন। অবৈধ কেন্দ্র বন্ধ, বিপাকে জেলেরা তাজিয়াকাটা ও ঘটিভাঙ্গা এলাকার শত শত ফিশিং বোট ও ট্রলার নিয়মিত বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যায়। এসব নৌযানের জন্য বিপুল পরিমাণ ডিজেল প্রয়োজন।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, এলাকায় বৈধ জ্বালানি সরবরাহকেন্দ্র না থাকায় অনুমোদনহীন কেন্দ্রগুলো বন্ধ হওয়ার পর তারা দূরের এলাকা থেকে জ্বালানি সংগ্রহে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটিই বাড়ছে বলে জানান তারা। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে সাগরে যেতে না পারায় মাছ ধরার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

তাজিয়াকাটার জেলে মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাটের পাম্প থেকে তেল নিয়ে সাগরে যাই। এখন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন জায়গা থেকে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এখানে বৈধভাবে একটি পাম্প স্থাপন করা হলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে।”
সিলগালা ভেঙে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ
প্রশাসনের অভিযানে ছয়টি কেন্দ্র সিলগালা করার পর কোনো কোনো কেন্দ্র ফের চালু হওয়ার অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, সিলগালা ভেঙে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সিলগালা করা প্রতিটি কেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা পুনরায় সরেজমিনে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কেন্দ্রগুলোর মালিকানা, লাইসেন্স, জ্বালানি সংরক্ষণের অনুমতি, সরকারি জায়গা ব্যবহারের বৈধতা এবং পূর্বের জরিমানা বা মামলার তথ্য খতিয়ে দেখা দরকার।

স্থানীয় সমাজকর্মী মহি উদ্দিন বলেন, “শুধু অভিযান চালিয়ে তেলকেন্দ্র সিলগালা করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। জ্বালানি বাণিজ্যের পুরো ব্যবস্থাপনা তদন্ত করা দরকার। কোথা থেকে তেল আসে, কী পরিমাণ আসে, কোথায় বিক্রি হয় এবং নৌপথে কীভাবে পরিবহন করা হয়—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

প্রশাসনের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, তাজিয়াকাটা-ঘটিভাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে লাইসেন্সবিহীন ভাসমান তেলের দোকানগুলো সিলগালা করা হয়েছিল। কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত নন। সিলগালা করার পর কেউ ফের কার্যক্রম চালু করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত আহমেদ বলেন, সিলগালা ভেঙে কেউ তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সোলতান বলেন, অনুমোদনহীনভাবে তেল বিক্রির পাশাপাশি তেল পাচারের অভিযোগে কেউ জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু অভিযান ও সিলগালার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এই জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উৎস ও গন্তব্য অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কীভাবে তেল সংগ্রহ করছে, কী পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে এবং নৌপথে এর কোনো অংশ পাচারের সঙ্গে যুক্ত কি না—এসব বিষয়ে সমন্বিত তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসায়ী ও সাধারণ জেলেদের জন্য অনুমোদিত ও নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা চালুর দাবি

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park