
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের মহেশখালী জেটিঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টোল আদায়ে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছ থেকে বৈষম্যহীনভাবে টোল আদায়, টোল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানানো হয়।
৮ আগস্ট (শনিবার) সকালে মহেশখালী জেটিঘাট চত্বরে ‘মহেশখালী নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার সিটি কলেজের নবনিযুক্ত প্রভাষক রুহুল আমিন।
সভায় বক্তব্য দেন মহেশখালী উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মির্জা তারেক, মহেশখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল বাশার পারভেজ, সাংবাদিক জাহেদ সরওয়ার, দক্ষিণ ছাত্রসেনা নেতা আমির হোসেন, সাংবাদিক এস এম রুবেল, সাংবাদিক নুরুল আবছার ও ব্যাংকার মাহাবুব আলম। এ সময় স্থানীয় ছাত্র-যুবসমাজের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জেটিঘাটে আসা ভুক্তভোগী কয়েকজন পর্যটকও বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, একই জেটিঘাটে স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে ভিন্ন হারে টোল আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের পাশাপাশি টোল আদায়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। টোল আদায়ের নামে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে তা বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা আরও বলেন, মহেশখালী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতিগত পর্যটন এলাকা। এখানে পর্যটকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো এলাকার ভাবমূর্তিতে। তাই পর্যটকবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত ঘাট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ হওয়ার পর পরই মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এমপি তাহার ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন যে, “বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের সাথে আমার কথা হয়েছে। আগের নিয়মেই ঘাট চলবে। ৫ টাকার উপরে এক কানা-কড়িও ঘাইট্টাকে দিবেননা। আমার সাথে বসে নতূন সিদ্বান্ত গ্রহন না করা পর্যন্ত এই নিয়ম বলবৎ থাকবে”।
মাননীয় সংসদ সদস্যের এ ঘোষণার পর প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা, ছাত্র-যুবসমাজ ও পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
তবে টোল আদায়ের নতুন হার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ হয়েছে কি না এবং ঘাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।