
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চলীয় উপজেলা মহেশখালীতে মাদক পাচার, সোনাদিয়া দ্বীপে অবৈধ কটেজ নির্মাণ, নদী-খাল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান মাহমুদ ডালিম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সোলতান, মহেশখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর ছিদ্দিক, মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ বাবুল, মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, মহেশখালী অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি হোবাইব সজীব, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারুক ইকবাল, সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের ব্যক্তিগত সহকারী তারেক রহমান জুয়েল, হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সেলিম সিকদার, কোস্টগার্ডের প্রতিনিধি, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সভায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মহেশখালী দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয়।
পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল সোনাদিয়া দ্বীপে গড়ে ওঠা অবৈধ কটেজ জোন এবং অননুমোদিত স্থাপনা নিয়েও সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, এসব স্থাপনা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে এবং টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
মহেশখালীর বিভিন্ন নদী, খাল ও উপকূলীয় এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে। বক্তারা বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়।
মহেশখালী উপজেলায় সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি, ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সোলতান বলেন, “অপরাধ দমন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি সম্ভব।”
সভা শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সুশাসনভিত্তিক মহেশখালী গড়ে তোলা সম্ভব। সভায় গৃহীত সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়।