1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালী সংস্কৃতির আসল গল্পটি কি? আকবর-ই-বৈশাখ, মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং আমাদের সংস্কৃতি। উস্তাদ সুলতান নাঈম - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
​সাতক্ষীরায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত: আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা জাসাসের বর্ণাঢ্য র‍্যালি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা পাঁচবিবিতে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন জেলা তথ্য অফিসারের সাথে বি.ডি.এফ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত জগন্নাথপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে  আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শেরপুর জেলা পুলিশের উদ্যাগে ‘গণিতকে করবো জয়”- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণিত উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত দুর্গাপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত সাংবাদিকদের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি

পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালী সংস্কৃতির আসল গল্পটি কি? আকবর-ই-বৈশাখ, মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং আমাদের সংস্কৃতি। উস্তাদ সুলতান নাঈম

মোঃ ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১৯ বার পঠিত

মোঃ ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার

ইতিহাস, ঐতিহ্য আর গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি, বাঙ্গালী জীবন ধারা শুধুই কি একটি গল্প কাহিনী!
কিছুদিন আগেও যারা পহেলা বৈশাখকে “হারাম” বলে ফতোয়া দিত, রাস্তায় মিছিল করে বৈশাখী উদযাপনের বিরোধিতা করত, তারাই এখন নিজেরা বৈশাখ উদযাপন করছে। তবে নাম দিয়েছে “আকবর-ই-বৈশাখ”। এই নামকরণ যেন নিজেই একটা ইতিহাসের বিদ্রূপ।

কারণ, সম্রাট আকবর কে ছিলেন? যাঁর নামে তারা এই আয়োজন করছে, তিনি ছিলেন এমন একজন মুঘল সম্রাট যিনি হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, পার্সি সব ধর্মের সারমর্ম নিয়ে “দ্বীন-ই-ইলাহী” নামে একটি নতুন ধর্মদর্শন প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি রাষ্ট্র থেকে ইসলামের একক আধিপত্য সরিয়ে সকল ধর্মের সমন্বয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়তে চেয়েছিলেন। আজকের ভাষায় বলতে গেলে, আকবর ছিলেন কট্টরপন্থীদের সবচেয়ে বড় বিরোধী। যারা তাঁর নামে উৎসব করছেন, তারা কি আসলে জানেন তাঁরা কার নাম স্মরণ করছেন?

এবার আসা যাক মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রসঙ্গে। মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। সময়টা ছিল স্বৈরাচার এরশাদের শাসনকাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ হিসেবে এই শোভাযাত্রার আয়োজন করেছিলেন। অর্থাৎ এটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের রাজনৈতিক প্রতিবাদ থেকে জন্ম নেওয়া আয়োজন। মাত্র তিন দশক আগের কথা।

তাহলে প্রশ্ন আসে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগের ৩৫ বছরের পুরোনো একটি অনুষ্ঠানকে কে “হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি” বলে ঘোষণা করে দিল? এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটি আদতে কী? ১৭৮৪ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা ভারতবর্ষের সংস্কৃতি ও ইতিহাস গবেষণার নামে যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিল, এশিয়াটিক সোসাইটি সেই ধারারই উত্তরসূরি। একটি ঔপনিবেশিক চিন্তার উত্তরাধিকারী সংগঠন ঠিক করে দেবে পূর্ববঙ্গের মানুষের সংস্কৃতি কোনটি, আর কোনটি নয়, এই দাবি প্রথম থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ।

এখন “হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি” বলতে কী বোঝানো হচ্ছে? ইতিহাস বলে, পহেলা বৈশাখের উৎসব শুরু হয়েছিল মুঘল আমলে সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত বাংলা সনের প্রথম দিন হিসেবে, মূলত কৃষিভিত্তিক খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য। পুণ্যাহ ও হালখাতার মাধ্যমে এই দিনটি পালিত হতো। সেই উৎসব আর আজকের মঙ্গল শোভাযাত্রা এক জিনিস নয়। একটিকে অপরটির সঙ্গে মিলিয়ে “হাজার বছরের ঐতিহ্য” বলা ইতিহাসের সঙ্গে সৎ নয়।

আরও একটি প্রশ্ন থেকে যায়। হুতুম পেঁচা, মাছ, বাঘের মুখোশ নিয়ে শোভাযাত্রা করলে মঙ্গল হয়, এই বিশ্বাস কোন যুক্তিতে দাঁড়ায়? যারা নিজেদের যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল বলেন, তাদেরই উচিত এই প্রশ্নের সৎ উত্তর দেওয়া। বিজ্ঞানমনস্কতার কথা বলতে বলতে পেঁচার মূর্তি নিয়ে রাস্তায় মিছিল করা, এই দুইয়ের মধ্যে কোনো বিরোধ আছে কি না, সেটা নিয়ে একটু ভাবা দরকার।

এই প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক ওয়াকিল আহমদ ও ড. আহমদ শরীফের গবেষণার কথা উল্লেখ করা জরুরি। তাঁদের কাজে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগেও পূর্ববঙ্গের সাধারণ মানুষের সংস্কৃতি ছিল মূলত ইসলামী মূল্যবোধনির্ভর। পর্দা, পারিবারিক বন্ধন, ধর্মীয় উৎসব এসবই ছিল তখনকার মানুষের জীবনযাত্রার স্বাভাবিক অংশ। সেই বাস্তবতাকে পাল্টে দেওয়ার জন্য ষাটের দশক থেকে একটি সুপরিকল্পিত সাংস্কৃতিক প্রকল্প শুরু হয়। লক্ষ্য ছিল মুসলিম জাতীয়তাবাদকেন্দ্রিক সংস্কৃতির বিপরীতে একটি বিকল্প পরিচয় দাঁড় করানো। মঙ্গল শোভাযাত্রা সেই প্রকল্পেরই একটি পরবর্তী পর্যায়ের ফসল।

সবচেয়ে বেদনার বিষয় হলো, কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই উৎসব করা হয়, অথচ রমজান মাসে অনেক পরিবার পানি দিয়ে ইফতার করেছে। অসংখ্য মানুষ তিন বেলা পেট ভরে খাবার খেতে পারে না। যে মানুষটি সারাদিন রোদে পুড়ে রিকশা চালায়, তার জীবনে কোনো পরিবর্তন আনে না এই শোভাযাত্রা। তার জন্য কোনো বিবৃতি নেই, কোনো মিছিল নেই। অথচ একটি গান বন্ধ হলে বা একটি উৎসবে বাধা এলে বিবৃতির বন্যা বয়ে যায়।

কুরবানির প্রসঙ্গে যারা বলেন, “কুরবানির টাকা গরিবদের দিয়ে দাও”, তাদের জানা উচিত ইসলামে কুরবানির মাংসের তিন ভাগের দুই ভাগই যায় আত্মীয়, প্রতিবেশী ও গরিবদের কাছে। কুরবানিই গরিবের হক পৌঁছে দেওয়ার একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা। একে বাধা দেওয়া মানে আসলে গরিবের অধিকার কেড়ে নেওয়া।

শেষ কথা হলো, সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা হোক, বিতর্ক হোক, এটা সুস্থ সমাজের লক্ষণ। কিন্তু যে সংস্কৃতি মানুষের পেটের ক্ষুধা মেটায় না, মানুষের মর্যাদা রক্ষা করে না, শুধু ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেই সংস্কৃতির আসল চেহারা চিনে নেওয়াটাই হলো সত্যিকারের জাগরণ।

উস্তাদ সুলতান নাঈম
শিক্ষক, লেখক, আলোচক এবং পরামর্শক।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park