
মোঃ মুকিম উদ্দিন সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি::
দীর্ঘ ৩০ বছর পর সুনামগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী পেল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সর্বশেষ ১৯৯৬(ফেব্রুয়ারি) জাতীয় নির্বাচনে তিন মাসের জন্য বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন থেকে গুলজার আহমদ। এর আগে ১৯৭৯ সালের বিএনপি থেকে দেওয়ান সামসুল আবেদীন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে উপ-নির্বাচনে ৪ দলীয় জোট থেকে এডভোকেট শাহীনুর পাশা চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রায় ৩০ বছর পর নিজেদের প্রার্থী দিলো বিএনপি। সাবেক ছাত্রনেতা ও যুক্তরাজ্য বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছেন।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, এই আসনে বিএনপির ৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। প্রত্যকেই যোগ্যতা সম্পন্ন নেতা। এবারের নির্বাচন বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। তাই প্রার্থিতার বিষয়ে দলীয় ত্যাগ,অবদান, মাঠ পর্যায়ে জরিপ, গোয়েন্দা তথ্যসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা এসেছে। এবার সাড়া দেশে তুলনামূলক যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। বিতর্কিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্ক ছিলো দল। জেল জুলুম নির্যাতনের কারনে ২০০৮ সালে তারেক রহমান স্বপরিবারে যুক্তরাজ্যে চলে যান। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি বিদেশ থেকে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছেন। মায়ের অসুস্থতার কারনে অনেক দিন ধরে দলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত সময়গুলোতে বিএনপি যুক্তরাজ্য থেকে আন্দোলন সংগ্রামের রূপরেখা পরিচালিত হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়সহ বিএনপির আন্দোলনের অন্যতম স্থান ছিলো যুক্তরাজ্য। কাজেই যুক্তরাজ্যে কয়ছর এম আহমদ ও এম এ মালেকরা ছিলো অতন্দ্র প্রহরী। সকল আন্দোলন সংগ্রামে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনের সারথি ছিলেন তারা। দলের কঠিন সময়ে যুক্তরাজ্যে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেয়া মানুষগুলোকে মূল্যায়ন দিয়েছেন দলপ্রধান। তিনি নিজেই অবগত তাদের বিষয়ে।
রাজনীতির সচেতন জনসাধারন জানান, সচেতন মানুষ হিসেবে আমরা মনে করি বিএনপি তার স্বকীয়ায় ফিরে এসেছে। নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে। তারা বিগত দেড় যুগের কসরত ভুলে ভালো কিছু করতে চায়, এটি ইতিবাচক দিক। কয়ছর এম আহমদ এর প্রত্যেক উঠান বৈঠকে জনসাধারনের উপস্থিতি মনে হয় এবার বিশাল ব্যবধানে ধানের শীর্ষ প্রার্থী জয় লাভ করবে। প্রত্যেক দিন বিএনপি পরিবারের লোকজন গ্রামের প্রত্যেক জনসাধারনের সাথে ধানের শীর্ষের প্রার্থীর লিফলেট বিতরণ করতেছেন। এ এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ বলেন, শুনেছি শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুরে বিনা ভোটের এক এমপি অনেক কাজ করেছেন। আপনারা জীবদারা বাজারের রাস্তাঘাট দেখুন, দেখবেন কেমন উন্নয়ন হয়েছে। এখনো অবহেলায় আছে পশ্চিমের এই অঞ্চলটি। আমি কথা দিচ্ছি, বিএনপি সরকার গঠন করলে শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর আর অবহেলিত থাকবে না। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর পর দলের নিজস্ব কর্মীকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমরা এতো দিন নিজের লোককে ভোট দিতে পারি নি। জোটে থাকার কারণে এই আসনে জোটের লোককে ধানের শীষ দেওয়া হতো। আমাদের দলের নির্দেশে আমরা ধানের শীষের জোটের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি। কিন্ত আমাদের দলের কর্মীরা বঞ্চিত থেকে যেতো। অনেক দিনের দাবির প্রেক্ষিতে তারেক রহমান আপানদের এক সহযোদ্ধাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দিয়েছেন। এখন আমাদের আরো বেশি দায়িত্ব বেড়ে গেলো। আমাদের সবাইকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি করে কাজ করতে হবে।