
মোঃ মুকিম উদ্দিন সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
বালুপাথর লুট ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ হবে। আমি যোগ দেয়ার একদিনের মধ্যে বালু লুট ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা হয়েছে, আরও হবে। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে আমাদের সহযোগিতা করুন। অপরাধের প্রমাণসহ আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিন।
‘আমি কারো লোক না, আমি আইনের লোক। সামনে নির্বাচন, নির্বাচনে সরকার যে দায়িত্ব দেবে আইনের ভেতর থেকে আমরা সেই দায়িত্ব পালন করবো’।
সকল অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে আমার জিরো টলারেন্স থাকবে। আমার বাবা নেই, আসার সময় মা বলেছেন, সুনামগঞ্জে যাচ্ছি, সুনামগঞ্জে সুনামটুকু নিয়ে যেতে।
সোমবার বিকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সাথে বিভিন্ন কথা প্রশ্নের জবাবে এভাবেই কড়া সতর্কতা দিয়ে উত্তর দিচ্ছিলেন নব যোগদানকৃত পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন।
মতবিনিময় সভায় নির্বাচন, বালু—পাথর লুট, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, মাদক, ইভটিজিং, নাশকতাকারীদের গ্রেপ্তার, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অনলাইন জুয়া, সীমান্তে চোরাকারবার সহ নানা আইনশৃঙ্খলা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, সকল অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। আমার ন্যূনতম গাফিলতি থাকবে না। আমি যোগ দিয়েছি একদিন পার হয়েছে। ইতোমধ্যে বালু লুটের একটি মামলা হয়েছে, আরও একটা হবে। ইজারা বহির্ভূত জায়গার নৌ—পথে ব্যারিকেড দিয়ে চেকপোস্ট বসিয়ে বালু—পাথর লুট একবারে বন্ধ করা হবে। ইজারার আওতায় জায়গাগুলোতে অনিয়ম হলে আমরা সময় নিয়ে সেটাও দেখবো। আমি আসার পর ইতোমধ্যে ধোপাজান লুটপাটের একটা মামলা হয়েছে। দুই—একদিনের মধ্যে আরও একটি মামলা হবে।
তিনি বলেন, আপনারা তথ্য দেন— পুলিশের ওই কনস্টেবল, এসআই, অতিরিক্ত এসপি, এসপি বা আপনি নিজেই (সাংবাদিক) এই ভাবে জড়িত আছেন দেখেন ব্যবস্থা নেয়া হয় কি না। সারা সুনামগঞ্জের গ্রামগঞ্জে মানুষদেরকে বলে দেন আমার কোন পুলিশ সদস্য মাদক ব্যবসায়ী বা দালালের সাথে হাঁটছে শুধু একটা ছবি তোলেন আমার কার্যালয়ের অফিসার বা আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেন। দেখেন আমরা ব্যবস্থা নেই কি না।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, অটোরিকশা ও ইজিবাইক শুধু সুনামগঞ্জের না সারাদেশের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের কোন প্রশিক্ষণ নাই, জ্ঞান নেই। সড়কে এসে যানবাহন চালাচ্ছে। এর উপর পৌরসভা থেকে এদেরকে লাইসেন্সও প্রদান করা হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে ট্রাফিক পুলিশ, পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন মিলে আমরা সমন্বিত কাজ করার চেষ্টা করবো।
সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শেরগুল আহমেদ, পঙ্কজ কান্তি দে, খলিল রহমান, লতিফুর রহমান রাজু, মাহবুবুর রহমান পীর সহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল, তাপস রঞ্জন ঘোষ, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম সহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ।