1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
জয়পুরহাটে ৫টি উপজেলা ব্র্যাকের আলু বীজ রোপণ করে নিঃস্ব শতশত কৃষক। - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত জগন্নাথপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে  আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শেরপুর জেলা পুলিশের উদ্যাগে ‘গণিতকে করবো জয়”- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণিত উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত দুর্গাপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত সাংবাদিকদের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি নিষিদ্ধ ফরেক্স X-FUSION TAG MARKETS দ্বারা ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা পাচারের আশঙ্কা! ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে লাখো মানুষ। পর্বঃ ০১ “চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত।” ​ গাজীপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনায় উজ্জীবিত করে। আল-আমিন হালদার যে মাঠে শেষ বল করেছিলেন, সেই মাঠেই শেষ বিদায়—বিরামপুরের ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া চারঘাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

জয়পুরহাটে ৫টি উপজেলা ব্র্যাকের আলু বীজ রোপণ করে নিঃস্ব শতশত কৃষক।

আল আমিন
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৬৮ বার পঠিত

মোঃ আল-আমিন 

জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি

জয়পুরহাট জেলার প্রায় উপজেলার ব্র্যাকের নিম্নমানের বীজ আলু রোপণ করে নিঃস্ব শতশত কৃষক। গজায়নি শতশত বিঘা জমিতে আলুর গাছ। ফলে চরম হতাশ হয়ে পড়েছে ব্র্যাকের আলু বীজ রোপণ করে কৃষকরা। জেলা সদর ও কালাই ক্ষেতলালের অনেক আলু চাষী ব্র্যাকের আলু বীজ কিনে রোপণ করেছেন। কিন্তু তাদের কারো জমিতে গজায়নি আলুর গাছ। এ নিয়ে স্থানীয় কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষি অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন৷ জেলার ধারকি এলাকায় বেলাগাড়ি মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এমন দৃশ্য। মাথায় হাত দিয়ে চাতক পাখির মতো হতাশ হয়ে আলুর জমিতে পড়ে রয়েছে আলু চাষীরা। 

জানা গেছে, যারা ব্র্যাকের বীজ আলু কিনে রোপণ করেছেন তাদের কারো জমিতে আলুর গাছ বের হয়নি। অথচ পাশের জমিতে অন্য কোম্পানির বীজ আলু কিনে রোপণ করেছেন তাদের জমিতে সুন্দর ভাবে বের হয়েছে আলুর গাছ। বেলাগাড়ী মাঠে আলু চাষী এরফান আলী ১৩ বিঘা মনজুরুল ৩ বিঘা জামিল ৩ বিঘা ফরিদ ২ বিঘা জামিল ৩ বিঘা বজলু ৩ বিঘা হামিদ ৩ বিঘা ফারুক ২ বিঘা ছালাম ফকির ৮১ শতক৷ এভাবে শত শত বিঘা জমিতে কোন গাছ গজায়নি। তারা জানান, ব্র্যাকের বীজের খুব ভালো আলুর ফলন হয় বলে তারা এবারও ব্র্যাকের বীজ আলু কিনে রোপণ করেছেন। কিন্তু তাদের কারো জমিতে আলুর গাছ বের হয়নি। কৃষক এরফান আলী জানান, তার ১৩ বিঘা জমিতে ব্র্যাকের বীজ আলু কিনে রোপণ করেছেন। 

তারও জমিতে কোন আলুর গাছ বের হয়নি। আর যে দু’একটা গাছ বের হয়েছে সেগুলো গাছের আলু পঁচে যাওয়ায় গাছ দুর্বল হয়ে মরে যাচ্ছে। এবার ব্র্যাকের বীজ আলু রোপণ করে নিঃস্ব হয়ে পথে বসতে হবে আমাদের। এবার ১বিঘা জমিতে আলু রোপণ করতে প্রথমেই জমিতে খরচ হয়েছে ৩৬ হাজার করে টাকা। এতে করে তার ১৩ বিঘা জমিতে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ভুক্তভোগী কৃষক আশরাফ আলী বলেন আলুর ক্ষতিপূরণ না পেলে আইনের আশ্রয় নিব। এছাড়া একই মাঠে করিমের ডিপে মুকুল নামের একজনের ১১৬ শতক জমিতে ব্র্যাকের বীজ আলু রোপণ করে তারও কোন আলুর গাছ বের হয়নি। এসব বিষয়ে সদর ৎপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে অনেক কৃষকের মন্তব্য, এসব খাওয়ার আলু রি-প্যাক করে ব্র্যাকের বীজ আলু বলে কৃষকের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। জয়পুরহাট জেলায় স্বনামধন্য ব্রাক আলু বীজ কোম্পানির ১৪ জন ডিলার ও রিটেইলারসহ খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র থেকে এসব বীজ ক্রয় করে কৃষকের জমি এবার পোষ্টমেডাম করা হয়েছে৷ সুস্থ-সবল চারা এবং ভালো উৎপাদন পেতে হলে ভালো মানের বীজ ব্যবহার অত্যাবশকীয়। ভালো জাত ও বীজের মান ভালো না হলে ভালো কৃষকের অর্থ, শ্রম, সময় যেমন নষ্ট হয় তেমনি ঘাটতি সৃষ্টি হয় দেশীয় উৎপাদনের ওপরে। মৌসুমে আলু বীজের চাহিদা বেশি থাকে। এর সুযোগ নেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। যে বীজের চাহিদা বেশি থাকে তার কৃত্তিম সংকট দেখিয়ে দাম বৃদ্ধি করে দেয়। অনুমোদিত খুচরা সার-বীজ বিক্রেতার কাছ থেকে আলু বীজ কিনে মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও প্রতারিত কৃষকের কোনো লাভই হয়নি। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য মতে, রবি মৌসুমে দেশে আলু বীজের চাহিদার তুলনায় সরকারি সংস্থা (বিএডিসি, বেসরকারি সংস্থার মিলিয়ে শতকরা ৬৪ ভাগ বীজের যোগান দিয়েছিলো। বাকিটা কৃষক স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন করেছিলো। একদিকে যেমন বাজারে বীজের সংকট দেখিয়ে দফায় দফায় নীরবে দাম বৃদ্ধি পায় অন্য দিকে সংকটে ভেজাল বীজ বিক্রি বেশি হয়। এমনকি সরকারি বিএডিসির বীজ কিনেও কোন কোন সময় প্রতারিত হয় কৃষকরা। তবে সব বীজ ভেজাল তা কিন্তু নয়। কৃষি প্রণোদনার বীজে আস্থা রেখেও কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে ভেজাল ও অশুটিং খাবার আলু প্যাকেট জাত বীজ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। তবে বীজ বাজির হাত থেকে সাধারণ কৃষকদের রক্ষা করবে কে? বর্তমান সরকার কৃষি উন্নয়নে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, গবেষণায় নতুন জাত সৃষ্টি, উচ্চ ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধী বিভিন্ন জাত উদ্ভাবন, আধুনিক কৃষি সেবা, বীজ উৎপাদনে জোরদারসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। বাজারে ভেজাল বীজ উচ্চমূল্য বিক্রির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও করছে। কিন্তু তার পরেও কেনো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা?

ভেজাল বীজে বাজার সয়লাব। প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী, আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের কোনো নাম নেই। নেই বীজ প্রত্যায়ন এজেন্সির সিল। এজেন্সির লাইসেন্স থাকলে যে কেউ এভাবে প্যাকেটজাত আলু বীজ হিসেবে বিক্রি করতে পারেন। বীজ প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসে আছে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বীজ ব্যবসায়ীরা। কৃষক বাঁচলে বাঁচবে আমাদের বাংলাদেশ। দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে হলে দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপশি বীজ সিন্ডিকেট ধ্বংস করে ভেজাল বীজ বিক্রি বন্ধ করা সময়ের দাবি। কৃষক পর্যায়ে বীজের মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা উন্নত না হওয়া, কৃষকদের সচেতনতার অভাব, বাজারে বীজের মনিটরিং ব্যবস্থার দুর্বলতা, নিকটস্থ দোকান থেকে বীজ ক্রয়, এমনকি বীজের সিন্ডিকেটের ফলে ভেজাল বীজ কিনে দিনের পর দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। এছাড়া মৌসুমে বীজের কৃত্রিম সংকটের ফলে ভেজাল বীজ বিক্রির ধুম চলে। তবে বেলাশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হয় খেটে খাওয়া গরীব চাষীরাই। সম্প্রতি নামী দামী কোম্পানি এমনকি সরকারি বীজ উৎপাদন সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) ভালো বীজ কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা মোড়ক পরিবর্তন করে বিক্রির ফলে কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষকরা মোড়ক দেখে বীজ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। অবিকৃত মেয়াদ উত্তীর্ণ বীজ নতুন মোড়কে স্থানীয়ভাবে মোড়কজাত করে আবারো বিক্রির ফলে আশানুরুপ গাছ জন্মাচ্ছে না। জন্মালেও প্রতি কপে দু একটি গাছ দেখা মিলছে । মোড়কে একটি জাত লেখা কিন্তু জন্মাচ্ছে অন্য জাত। সারা দেশেই প্রতিনিয়ত খবর পাওয়া যায় বীজ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন কৃষকরা। কিন্তু কেনো? কৃষকরা কেনো বীজ কিনে প্রতারিত হবেন? এগুলো দেখার দায়িত্ব যাদের তারা কী করেন? আর কৃষকদের অভিযোগ করেই কি লাভ? জেলা শহর, উপজেলা ইউনিয়ন এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলে রয়েছে বীজ বিক্রয় প্রতিষ্ঠান। নামে-বেনামে অনুমোদীত এমনকি অনুমোদনহীন এসব বীজ বিক্রয় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে মুনাফা অর্জন এবং কৃষকদের প্রতারিত করতে। তবে সব বীজই ভেজাল এ কথা বলা মুশকীল। কেন না ভেজাল বীজ শনাক্তকরণের যন্ত্র যেমন নেই কৃষকের হাতে তেমনি নেই বীজ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের হাতে। মূলত এখন বীজ বাজার চলে হাওয়ার ওপরে। বিশ্বাস করলে বীজ নেবেন আর না করলে নেবেন না। কিন্তু ভালো বীজের সন্ধানে সব সময়ই হন্যে হয়ে ঘোরেন কৃষকরা। বীজের মান বোঝা যায় তখনই যখন কৃষক কাঙ্খিত ফলন না পায়। অনেক সময় কৃষক বুঝতেও পারে না তার ব্যবহৃত বীজটি ভেজাল ছিলো কি না। কেন না এ সংক্রান্ত কোনো প্রকার প্রশ্ন তোলা হলে তার দিকে ছুড়ে দেওয়া হবে হাজারো প্রশ্নের তীর। কিভাবে জমি চাষ করেছিলেন, কখন সেচ দিয়েছিলেন, কী ধরনের সার দিয়েছিলেন, কতবার নিড়ানী দিয়েছিলেন, ক্ষেতে ঠিকমতো কীটনাশক দেওয়া হয়েছিলো কি না। এমন হাজারো প্রশ্ন এড়িয়ে চলতে কৃষক আর কোনো প্রকার অভিযোগ তুলতে সাহস পায় না। তার ওপরে রয়েছে বীজ ব্যবসায়ীদের বিশাল এক সিন্ডিকেট। তাদের রয়েছে রাজনৈতিক বড় বড় পরিচয়ও। কৃষিতে রবি মৌসুমে শীতকালীন শাকসবজি উৎপাদন বেশি হয়। আবাদ ও ফলন দুইই ভালো হয়, এই রবি মৌসুমে বীজ আলু কিনে প্রতারিত হচ্ছেন কৃষকরা প্রতিনিয়ত। নিম্নমানের বীজ আলু বিক্রির ধুম চলে। এই বীজ বাজার থেকে কিনে নিয়ে গিয়ে নাম মাত্র মোড়কজাত করে আবার বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে কৃষকদের প্রতারিত করে অসাধু বীজ ব্যবসায়ীরা। বছরের পর বছর এই বীজ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন কৃষকরা। বিষয় জানতে চাইলে ব্রাকের টেরিটরি ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কৃষকদের ভুলের কারণেই আলু পচে গেছে, কৃষকরা আদ্রতা ও ভেজা মাটিতে আলু লাগানোর ফলেই এই সমস্যা হয়েছে বলে জানান তিনি। জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে কৃষকদের কাছ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি, ইতিমধ্যে কৃষি অফিসার বরাবর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। জয়পুরহাট সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রাফসিয়া জাহান বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরে আমরা সেখানে গিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি, তদন্তের পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক রাহেলা পারভীন বলেন, উন্নতমানের বীজ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যবসা করার কথা কোম্পানিগুলোর। কিন্তু কৃষকদের সরলতার সুযোগে প্রতারণা করেছে৷ আলু বীজ খুবই স্পর্শকাতর ফসল। হয়তো তারা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কৃষকদের কাছে বিক্রি বা বাজারজাত করেছে। কৃষকদের এই ক্ষতির দায় ব্রাক সিড কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park