1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
ঠাকুরগাঁও পাক হানাদারমুক্ত দিবস - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত জগন্নাথপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে  আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শেরপুর জেলা পুলিশের উদ্যাগে ‘গণিতকে করবো জয়”- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণিত উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত দুর্গাপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত সাংবাদিকদের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি নিষিদ্ধ ফরেক্স X-FUSION TAG MARKETS দ্বারা ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা পাচারের আশঙ্কা! ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে লাখো মানুষ। পর্বঃ ০১ “চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত।” ​ গাজীপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনায় উজ্জীবিত করে। আল-আমিন হালদার যে মাঠে শেষ বল করেছিলেন, সেই মাঠেই শেষ বিদায়—বিরামপুরের ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া চারঘাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

ঠাকুরগাঁও পাক হানাদারমুক্ত দিবস

স ম জিয়াউর রহমান
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৭০ বার পঠিত

স ম জিয়াউর রহমান :
আগামীকাল ৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও পাকিস্তানী হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঠাকুরগাঁও পাক হানাদার মুক্ত হয়। ঠাকুরগাঁও তখন মহকুমা ছিল। ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় জেলার ১০টি থানা মিলে ঐ মহকুমা ছিল। এ অঞ্চলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণপণ লড়াই আর মুক্তিকামী জনগণের দুর্বার প্রতিরোধে নভেম্বরের শেষ দিক থেকেই পিছু হটতে শুরু করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। চুড়ান্ত বিজয় আসে আজকের এই দিনটিতে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাক হানাদাররা ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সহজ সরল মানুষের ওপর। এ সময় হানাদাররা গ্রামে গ্রামে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠণ ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এরপর ১৫ই এপ্রিল আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকবাহিনীর দখলে চলে যায় ঠাকুরগাঁও। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে পরিচিত ঠাকুরগাঁওয়ের ইসলামনগর থেকে ছাত্রনেতা আহাম্মদ আলী, ইয়াকুব আলী, মাজারুল, দবিরুল ইসলাম, নুরুজ্জামান ও সিরাজউদ্দীনকে ধরে এনে পাক হানাদার বাহিনী ঠাকুরগাঁও ক্যাম্পে আটক করে রাখে। পরে তাদের হত্যা করে টাঙ্গন নদীর পারে ফেলে রাখা হয়। যেখানে বর্তমানে বধ্যভুমি গড়ে তোলা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও তখন ছিল ৬ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। কমান্ডার ছিলেন বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার এম খাদেমুল বাশার। এ সেক্টরে প্রায় ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিল। ২৯ নভেম্বর এ মহকুমার পঞ্চগড় থানা প্রথম শক্রমুক্ত হয়। পঞ্চগড় হাত ছাড়া হওয়ার পর পাকবাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়। এরপর তারা প্রবেশ করে ঠাকুরগাঁওয়ে। ২ ডিসেম্বর রাতে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রচুর গোলাগুলি শুরু হয়। ঐ রাতেই শক্রবাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হটে ২৫ মাইল নামক স্থানে অবস্থান নেয়। ৩ ডিসেম্বর ভোররাতে ঠাকুরগাঁও শহর শক্রমুক্ত হয়। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ফাড়াবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধার পিতা শেখ শহর আলী ও তার ভাই শেখ বহর আলীসহ ১৯ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে ধরে এনে হত্যা করে তাদের মরদেহ আব্দুর রশিদ ডিগ্রি কলেজের পাশের একটি কূপে ফেলে দেয়। হানাদার বাহিনী ও তার দোসররা গণহত্যা চালায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জাঠিভাঙ্গা গ্রামে। সেখানে স্থানীয় কিছু লোকের সহায়তায় আশ-পাশের অনেক গ্রামের প্রায় ৩ হাজার নিরীহ গ্রামবাসীকে ধরে এনে পাকবাহিনী গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। পরে তাদের মরদেহ মাটি চাপা দেয়া হয়। ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক স্থানে গণহত্যা চালায় পাকবাহিনী ও তার দোসররা। এরই মধ্যে সুসংগঠিত হতে থাকে ঠাকুরগাঁওয়ের মুক্তিকামি মানুষ। তারা হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গড়ে তুলে দুর্বার প্রতিরোধ। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর পতনের পর এ এলাকার সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ে মুক্তির উল্লাস। আনন্দ উদ্বেলিত কন্ঠে ‘জয়বাংলা’ ধ্বনি আর হাতে প্রিয় স্বদেশের পতাকা নিয়ে ছুটাছুটি করতে থাকে তরুণ-যুবক সবাই। এদিন সকাল থেকেই ঠাকুরগাঁও শহর সহ জনপদ ও লোকালয়ে মানুষ জড়ো হতে থাকে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় বের হয় আনন্দের মিছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ঠাকুরগাঁও শহর।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park