
মোঃ মুকিম উদ্দিন জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
গ্রামের বিশাল বির্স্তীর্ণ সবুজ মাঠ সেই সাথে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা পথ , নদী ইত্যাদি জানান দেয় প্রকৃতি বয়ে চলা এক নির্দিষ্ট নিয়মে এবং নির্দিষ্ট গতিতে। গ্রামের সৌন্দর্য কখনো শহরের ইট কাঠে পাওয়া যাবেনা। তাইতো শহরের মানুষ খানিকটা অবসরে নাড়ির টানে ছুটে চলে আসে গ্রামের বাড়িতে।
গ্রামের সবুজ পল্লীতে যার শৈশব কাটিয়েছেন সেই ব্যক্তি যত বড়ই হোক না কেন,তার অবস্থান যেখানেই হোক সে বারেবারে চাইবে তার গ্রামের সবুজ প্রকৃতিতে ফিরে যেতে ।তাইতো বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কবিরা তাদের কবিতায় প্রকাশ করেছেন গ্রামের প্রতি তাদের ভাব ভালোবাসার কথা।
কবিগুরু তার অনেক গানে গ্রামের সৌন্দর্য্য বর্ননা করেছেন তেমনই একটি গান –
গ্রাম ছাড়া ওই রাঙ্গামাটি র পথ
আমার মন ভুলায় রে।
কবি মাইকেল মধুসুদন দত্ত সুদূর ফ্রান্সে গিয়েও শৈশবের সেই মধুর স্মৃতি মনে করে লিখেছেন
“সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে!
সতত,তোমার কথা ভাবি এ বিরলে?”
জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন-
“আবার আসিব ফিরে,
ধানসিড়িটির তীরে,
এই বাংলায়।“
বাংলার রূপ ও সৌন্দর্য কবিকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করেছে যেমন করে একজন প্রেমিক তার প্রেমিকার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়। বাংলার বুকে যে অপার রূপের খনি, তার কাছে পুরো দুনিয়ার সৌন্দর্য যেন কবির কাছে নস্যি! তাই তো তিনি বলেছেন-
বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।
এরকমই একটা গ্রামে যাবার জন্য মন চঞ্চল করছিল অনেক দিন থেকেই। আর তখনই পেয়ে গেলাম আমার এক অফিস কলিগের বদান্যতায় এই গ্রাম টির সন্ধান।
জগন্নাথপুর ও দিরাই সীমান্তবর্তী এই গ্রাম। নাম তার ভুরাখালী, এই গ্রামেই জন্মগ্রহন করেছেন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় নেতা প্রয়াত মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ।
জগন্নাথপুর-দিরাই সীমান্তের একদিকে ভুরাখালী, অন্যদিকে দিরাইয়৷ দুই উপজেলায় ছিলেন ভাটি বাংলার দুই সিংহপুরুষ প্রয়াত জাতীয় নেতা মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ ও প্রয়াত স্বর্গীয় বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত।
এই দুই উপজেলার দুই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কামারখালী নদী ও কালনী নদী।
গাছপালায় ঢাকা মেঠো পথ, নিবিড় বাঁশবন, শ্যাওলা জমে থাকা ডোবা এখনও রয়েছে৷ প্রকৃতি প্রেমিক দুই নেতা এই জায়গার টানে বারবার এসেছেন । তাইতো কবি বলেছেন-
চারিধারে চেয়ে এই প্রকৃতির সঙ্গে, পাখির গানের সঙ্গে, মানুষের সুখ দুঃখের যোগ আছে বলেই এতো ভালো লাগে।