
মোঃ আসাদুজ্জামান সাগর নিজস্ব প্রতিনিধি:
জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি তালিকা প্রকাশিত হয়ে আজ ২৩ অক্টোবর। উক্ত কমিটিতে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদ অপরিবর্তনীয় থাকলেও কিছু কিছু পদের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে,সবগুলো পদই প্রায় কাঙ্ক্ষিত ছিলো। তবে সবচেয়ে নজর কেড়েছে একটি পদ- সেটি হলো ‘খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক’ পদটি। তার কিছু কারণ আছে: শাহরিন ইরা-ই প্রথম নারী যিনি একটি বিভাগের সাংগঠনিক দ্বায়িত্ব পেয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি ১০ টি জেলার সাংগঠনিক সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করবেন আর এটিই সর্বাধিক জেলা নিয়ে গঠিত অর্থাৎ সবচেয়ে বড় বিভাগের দ্বায়িত্ব এখন একজন নারীর কাঁধে।
দীর্ঘদিন যাবৎ এই পদে দ্বায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ফরিদুল হক। ফরিদুল হকের সময় বিভিন্ন জেলা কমিটি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দৃশ্যমান হয়েছিলো।এমনকি এই ক্ষোভ সাতক্ষীরা জেলাতে এখন দৃশ্যমান। তাছাড়া, আপাতদৃষ্টিতে দেখা যায় এনসিপির সবচেয়ে সাংগঠনিক দূর্বল বিভাগ হিসাবে খুলনা বিভাগকে বলা যায়। আর সেই বিভাগের অবিভাবকত্ব এখন তার কাঁধে। ঢাকা,চট্টগ্রাম, বরিশাল,রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি লক্ষ্য করা গেলেও খুলনাতে সংগঠন অপেক্ষাকৃত ভঙ্গুর।
তবে, এনসিপির নতুন নেতৃত্ব শাহরিন ইরার হাতে তুলে দেওয়ার পেছনে কারণ হিসাবে সাতক্ষীরা জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুল ইসলাম আক্তার বলেন : ধারণা করছি তাকে নারী বা পুরুষ এই বিবেচনায় এই মহা দ্বায়িত্বটি দেওয়াহয় নি,বরং তার সাংগঠিক প্রোফাইল বিবেচনা করা হয়েছে। ইরা আপুর সাংগঠনিক সক্ষমতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ থেকে পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক। শুধু তাই নয় আপ বাংলাদেশের মতো বড় রাজনৈতিক সংগঠনের মুখপাত্র হিসাবে সফলভাবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন।
ঝিনাইদহ জেলায় জন্ম নেওয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পড়াশোনা করা মেধাবী ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নারী নেত্রী পেয়ে খুলনা বিভাগের নেতা-কর্মীরা আনন্দিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে ইতোমধ্যে প্রচুর নেতা-কর্মী পোস্ট করা শুরু করেছেন। সকলের মনে একটাই প্রত্যাশা: পরিশ্রমী,সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই নারীর হাত ধরেই সাতক্ষীরা জেলা সহ খুলনা বিভাগে এনসিপি একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি পাবে। শাহরিন ইরার সার্বিক সফলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।