
ইদ্রিস আলী
পাঁচবিবি উপজেলা প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি মডেল প্রেসক্লাবে আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও পাঁচবিবি পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ জিয়াউল ফেরদৌস রাইট মতবিনিময় সভা করেছেন।
শনিবার দুপুর ২টায় পাঁচবিবি মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় তিনি তার রাজনৈতিক জীবন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং উপজেলার উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরেন।
জিয়াউল ফেরদৌস রাইট ১৯৭৪ সালে উপজেলার দানেজপুর এলাকার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম আবদুল খালেক মণ্ডল মওলানা ভাসানীর ন্যাপ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মা জিন্নাতুন নেছা ছিলেন জয়পুরহাট মহকুমা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের কাছ থেকে মানুষের জন্য কাজ করার শিক্ষা পেয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। বগুড়ার আজিজুল হক কলেজ থেকে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়।
পরবর্তীতে তিনি পৌর যুবদলের ওয়ার্ড সভাপতি, পৌর বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক, জেলা বিএনপির সহ-তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক, মানবাধিকার সম্পাদক এবং ২০১৮ সালে জেলা বিএনপির ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি পাঁচবিবি পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থীকে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে নির্বাচিত হন তিনি।
রাজনীতির পাশাপাশি জিয়াউল ফেরদৌস রাইট একজন সফল মিল ও চাতাল ব্যবসায়ী। পাঁচ বছর ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার অভিজ্ঞতাই তাকে এবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে উৎসাহিত করেছে বলে জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতায় নির্বাচিত হলে নিজেকে চেয়ারম্যান নয়, উপজেলার মানুষের সেবক হিসেবে বিলিয়ে দিতে চাই। সীমান্তবর্তী এ উপজেলার সবচেয়ে বড় সমস্যা মাদক। মাদকাসক্তি যুবসমাজ, পরিবার ও দেশকে ধ্বংস করছে। নির্বাচিত হলে সকলের সহযোগিতায় পাঁচবিবিকে মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।”
এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।