1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের মহাসমাবেশে কি ঘটেছিল হাফেজ মো আনিসুর রহমানের সাথে - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত জগন্নাথপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে  আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শেরপুর জেলা পুলিশের উদ্যাগে ‘গণিতকে করবো জয়”- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণিত উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত দুর্গাপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত সাংবাদিকদের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি নিষিদ্ধ ফরেক্স X-FUSION TAG MARKETS দ্বারা ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা পাচারের আশঙ্কা! ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে লাখো মানুষ। পর্বঃ ০১ “চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত।” ​ গাজীপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনায় উজ্জীবিত করে। আল-আমিন হালদার যে মাঠে শেষ বল করেছিলেন, সেই মাঠেই শেষ বিদায়—বিরামপুরের ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া চারঘাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের মহাসমাবেশে কি ঘটেছিল হাফেজ মো আনিসুর রহমানের সাথে

মো ইয়াকুব আলী তালুকদার,স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ১১৪ বার পঠিত

মো ইয়াকুব আলী তালুকদার, স্টাফ রিপোর্টার
৫ মে ২০১৩ বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা মহাসমাবেশ আন্দোলনে শাপলা চত্বরে সেই দিন কি ঘটেছিল তা অনেকরই জানা থাকলেও বিভিন্ন জনের কাছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হলেও বাস্তবে কি ঘটেছিল তার জলন্ত বাস্তব স্বাক্ষী ও ভুক্তভোগী হাফেজ মো আনিসুর রহমান আনিসের কাছে তা জানতে পারবো। ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।

রাজধানী ঢাকার শাপলা চত্বরের রাস্তায় নামাজরত, তসবিহ তাহলিল করা, দেশের নিরীহ আলেম ওলামা ও মাদ্রাসা ছাত্রদের এবং এই মহাসমাবেশের সমর্থনে দেশের সাধারণ মানুষের উপর বর্বর হত্যাকাণ্ড সারা রাত জুড়ে অবিরাম অতর্কিত হামলা, গুলি, বোমা, বুলেট, গ্রেনেট, অগ্নিসংযোগ এবং সকাল হওয়ার আগেই ঢাকার রাস্তা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার। এই ঘটনা সকলেরই জানা।

হাফেজ মো আনিসুর রহমান (আনিস) বলেন, ৫ মে ২০১৩ রাতে বাড়িতে খবর পৌঁছালো আনিস মারা গেছে! বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে গেল। তখন অনেক ছোট তাই বাটন মোবাইল ছিল। তাই কোন ভিডিও ও পিকচার নাই, শিবিরের ভাইদের সাথে সফিপুর থেকে আব্দুল্লাহপুর এবং আব্দুল্লাহপুর থেকে মতিঝিল পায়ে হেঁটে গেলাম। স্লোগান দেয়ার অভ্যাস থাকায় পুরো রাস্তায় প্রায় সময় স্লোগান আমিই দিয়েছি। অবরোধ থাকলেও এ্যাম্বুলেন্স চলাচল ছিল স্বাভাবিক কয়েকটা বাসও চলতে দেখেছি তবে কোন ভাংচুর করিনি।

মতিঝিলের কাছাকাছি গেলে একভাই এসে বললেন, ভাই স্লোগান দিন, আমাদের ভাই সহিদ কেন খুনি হাসিনা জবাব দে! আমি বললাম এরকম কিছু না ঘটলে এমন স্লোগান দেয়া কি ঠিক হবে..?
বলতে বলতে পল্টনের দিক থেকে রক্ত মাখা কয়েকজন ভাইকে কাঁধে করে নিয়ে আসতেছেন ভাইয়েরা মেডিকেলে ভর্তি করাতে, এমন দৃশ্য সহ্য হলো না, চিৎকার দিয়ে সাথের ভাইদের বললাম শহিদ হতে গেলাম।

সাথে দু’জন চাচা ছিল তারাই বাড়ী ফিরে এসে বলেছিল আনিসকে আমরা আর পায়নি। তখন মারা গেছি বলে বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। পল্টনে শিবিরের ভাইদের সাথে কওমি পড়ুয়া কিছু ভাইসহ আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জানোয়ারদের সাথে লড়াই করলাম। ইট ভেঙ্গে দুই ফিতার ব্যাগে করে সামনে দিতে গেলাম, ওমনি শুরু হলো পুলিশের গুলি, এক বাসার বাহিরের সিঁড়ির কাছে লুকালে গুলিতে ফুলদানি গুলো ভেঙ্গে পড়ে গেল। শুয়ে পড়লাম একটা সাউন্ড গ্রেনেড হবে মেবি সেটা খুব কাছে ব্লাস্ট হলো। আমি মনে করলাম আমি হয়তো মারা গেছি, তারপর আরেকটা ওমন ভাবে শব্দ হলো, তখন ছোট মানুষ বুঝতেছিলাম না, শুধু মনে হচ্ছে, আমি মনে হয় এখনো মরিনি, মরলে তো বাকি গুলোর শব্দ পেতাম না।

তারপর ময়দানের যোদ্ধারা এমন অবস্থা দেখে জানোয়ারদেরকে ধাওয়া দিয়ে আমাকে কাঁধে করে এনে চোখেমুখে ক্লোজআপ লাগিয়ে দিয়ে আগুনের কাছে মুখটা ধরে রাখলেন, কিছুক্ষণ পর একটু স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলাম। পল্টনের আন্টিদের ধন্যবাদ যারা উপর থেকে জানালা দিয়ে পত্রিকা খাতা ইত্যাদি ফেলছিলেন যাতে আগুন ধরিয়ে টিয়ারগ্যাসের ক্ষমতটা কমানো যায়।

কিছুক্ষণ পর পুলিশ চতুর্দিক থেকে আমাদের ঘিড়ে ফেলে এবং গুলি করতে থাকে, আমরা কোনরকম মতিঝিল চলে যাই, রাতে হঠাৎ কারেন্ট চলে গেল, তারপর শুরু হলো নারকীয় হত্যা, মনে হচ্ছে আকাশ থেকে গুলির বৃষ্টি হচ্ছে এবং চতুর্দিক থেকে গুলি এবং বড়বড় চাকার গাড়ি দিয়ে মানুষ পিষ্ট করা শুরু হলো। তখন মিশরের ব্রাদারহুডের আন্দোলনের সকলকে মনে করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলাম, বললাম আমরা কোনরকম রাতে আশেপাশে থেকে ফজর থেকে আন্দোলন করবো কেউ বাড়িতে না যাই কিন্তু, আতঙ্কিত মানুষ সবাই চলে যাচ্ছিল।

তারপর কাকরাইলের দিকে এক কলা ব্যবসায়ী তার কাছে আমাদেরকে আশ্রয় দিলেন, এবং ফজর পড়লাম কাকরাইল মসজিদে। সাথে সাথে আবারো মতিঝিলের দিকে গেলাম, দেখলাম রাস্তা গুলো ধুয়ে লাশসহ ময়লা গুলো সিটি করপোশেনের গাড়িতে উঠাচ্ছে।

প্যান্ট ও গেন্জি পরিধানে থাকায়, পুলিশ টোকাই মনে করছিল তাই কিছু বলতেছেনা কিন্তু খালি পায়ে হেঁটে যাওয়া হুজুরদের স্যান্ডেল কই বলে বলে আওয়ামীরা মারছিল,আহ্! তখন অনেকেই ভয়ে আতঙ্কিত হয়েছিল।

সকালে এটিএন এর নিউজের লাইভ চলছিল, পিছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমার এক চাচা মো মামুনুর রশীদ বাড়িতে গিয়ে বলেন যে, আনিস মরেনি ওকে আমি এটিএন এর নিউজের লাইভে দেখলাম।

তখন থেকে আওয়ামীদের বিরুদ্ধে সকল আন্দোলনে যোগ দিয়েছি। যদি কখনো আওয়ামীরা ফেরার চেষ্টা করে, তাহলে এবার তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করবো ইনশা-আল্লাহ। ৫ মে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের এই মহাসমাবেশের নারকীয় তাণ্ডব ও হত্যাকান্ড আজীবন মনে থাকবে। ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যার স্বাক্ষী হয়ে থাকবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park