
— মোঃ রাজু শেখ…
তপ্ত রোদে পুড়ে কিম্বা বর্ষার অঝোর ধারায়,
আমরা ছুটি সংবাদের পিছু, মেঠো পথ আর শহরের পাড়ায়।
কাঁধে ঝোলে ব্যাগ, হাতে থাকে কলম আর ডায়েরি,
অসহায়ের আর্তনাদ তুলে ধরাই আমাদের জাদুকরী।
মাঠ পর্যায়ের ধুলোবালি মেখে লিখি জীবনের গান,
বিপন্ন মানুষের মুখে ফোটাতে চাই এক চিলতে হাসি ও সম্মান।
কারো রক্তচক্ষু কিম্বা ভয়ের শাসন করি না কভু গ্রাহ্য,
সত্যের কলম যখন চলে, মিথ্যার প্রাসাদ হয় অরাজ্য।
যখন সবাই ঘুমিয়ে বিভোর গভীর রাতের টানে,
আমরা তখন জাগি নিরবধি, নতুন খবরের সন্ধানে।
অগ্নিকাণ্ড কিম্বা লড়াই— প্রাণের মায়া তুচ্ছ করি,
গণমানুষের আস্থার ডোরে নিজেদের উৎসর্গ করি।
ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ সঁপেছি সংবাদেরই তরে,
দেশ আর দশের কথা পৌঁছে দেই প্রতিটি ঘরে ঘরে।
আমরা সাংবাদিক— আমরাই সত্যের অতন্দ্র প্রহরী,
সংবাদের কারিগর
রোদ চশমা নয়, কপালে ভাঁজ আর ঘামের নোনা জল,
পকেটে ডায়েরি, হাতে বুম—একাই সে এক দল।
উৎসুক ভিড়, পুলিশের বাঁশি, টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়া,
তার মাঝে খোঁজে সত্যের কণা, নেইকো আড়াল হওয়া।
শহরের কোলাহল কিংবা গ্রাম্য মেঠো পথ,
ছুটে চলা অবিরাম, ভাঙা নেই কোনো শপথ।
অসহায় মুখ, ডুকরে কাঁদা কোনো মায়ের আর্তনাদ,
ক্যামেরায় বন্দি করতে গিয়ে নিজেরই কাটে রাত।
পকেটে খিদে, বুকে জ্বালা, চোখে ক্লান্তি ঘোর,
অপেক্ষা শুধু কখন নামবে কাঙ্ক্ষিত এক ভোর।
ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে যখন নিউজ পাঠায় সে,
ততক্ষণে হয়ত বাড়ির উনুনে আগুন নিভেছে।
মিনিট কয়েকের ফুটেজ কিংবা কয়েক লাইনের খবর,
তৈরি করতে লাগে কত পরিশ্রমের কবর!
বিপদ দেখে সবাই পালায়, সে যায় অগ্নিকুণ্ডে,
নিজের নিরাপত্তা সঁপে দেয় অনিশ্চিত এক পাণ্ডে।
দিনশেষে যখন খবরটা ঝিলিক দেয় পর্দায়,
সাফল্য খোঁজে সে শুধু সত্যের নগ্ন মর্দায়।
বড়লোকেরা হাততালি দেয়, বাড়ে চ্যানেলের টিআরপি,
অথচ মাঠের মানুষটি আড়ালে হারায় তাঁর নিজেরই স্বরলিপি।
কেউ বলে চাটুকার, কেউ বা দেয় গালি,
সে তো শুধু বয়ে বেড়ায় মিথ্যে জগতের কালি।
কলম আর ক্যামেরা তার লড়াইয়ের হাতিয়ার,
কষ্টের বিনিময়ে গড়ে চলে এক নতুন পৃথিবী আর সত্যের মিনার।