
তাসলিমা রত্না ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে প্রতীক বরাদ্দের দিনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গফরগাঁও পৌর শহরের ইসলামিয়া স্কুলের সামনে এই সংঘর্ষে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু জায়গায় অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে প্রতীক পাওয়ার পর শোভাযাত্রার জন্য বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চুর সমর্থকরা ইসলামিয়া স্কুলের সামনে অবস্থান করছিলেন। একই সময় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান ‘হাঁস’ প্রতীক পেয়ে বিশাল মিছিল নিয়ে ওই এলাকা অতিক্রম করছিলেন। দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
গুলি ও অগ্নিসংযোগ: সংঘর্ষ চলাকালীন প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, যাতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের মধ্যে সাবেক ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সোহাগের নাম জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগ করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ: বিএনপি প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু অভিযোগ করে বলেন, “আমার নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্যে গুলি করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামলা করা হয়েছে। এই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “আমার ১০ হাজার সমর্থক নিয়ে শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলাম। আমরা কারও ওপর হামলা করিনি।”
বর্তমান পরিস্থিতি: ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল আল মামুন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে গফরগাঁও পৌর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।