
ইদ্রিস আলী
পাঁচবিবি উপজেলা প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ব্যস্ততম মোড় পাঁচমাথা এলাকায় অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা একটি ফুলের দোকান। এক পরিবারের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার অবলম্বন হয়ে উঠেছে। এই ছোট্ট ফুলের দোকান দিয়েই চলছে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া সংসারের খরচ এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন। সরকার বা স্থানীয়ভাবে একটু সহযোগিতা পেলে স্থায়ী একটি দোকান করতে পারলে আরও ভালোভাবে ব্যবসা বাড়ানো সম্ভব হবে।
স্থানীয়ভাবে ফুল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ঐই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই পাঁচমাথা এলাকায় ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এই ফুলের দোকান দিয়ে পাশে করেছে ছোট একটি মুদির দোকান। প্রতিদিন ভোর থেকেই তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে তাজা ফুল সংগ্রহ করে দোকান সাজান। গাঁদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা, জারবেরা, টিউব রোজসহ ৩০ ধরনের নানা জাতের ফুলে রঙিন হয়ে ওঠে তার দোকান।
ফুল বিক্রেতা রুমন মন্ডল বলেন আমি আগে কাপড়ের ব্যবসা করতাম,শারীরিক ভাবে অসুস্থ আমার একটি হার্ট ব্লক এজন্য সব ধরনের কাজ করতে পারতাম না। আগে সংসার চালানো খুব কষ্টের ছিল। এই ফুলের দোকান করার পর আল্লাহর রহমতে দিন বদলেছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হয়। এই আয় দিয়েই ছেলে-মেয়ের স্কুলের বেতন বই-খাতা আর সংসারের খরচ ঠিকমতো চালাতে পারছি।
ফুলের চাহিদা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। বিয়ে, গায়ে হলুদ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, জন্মদিন—সব জায়গাতেই ফুল লাগে। মানুষ এখন ফুল দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে ভালোবাসে।
ফুল কিনতে আসা আরিফ হোসেন বলেন, অনেক দিন পর ঘুরতে বের হয়েছি। এসে চোখে পড়লো পাঁচ মাথায় একটি ফুলের দোকানে অনেক ধরনের ফুল দেখে ভালোই লাগছিলো। ভাবতেছি বাড়িতে যাওয়ার সময় ছোট বোনের জন্য ফুল নিয়ে যাবো বোন অনেক খুশি হবে।
ফুল কিনতে আসা মাহবুবা খাতুন বলেন,আমি দোকান থেকে নিয়মিত ফুল নিই। ফুল সব সময় টাটকা থাকে, দামও কম। ছোট দোকান হলেও ব্যবহার আর মানের দিক থেকে তিনি অনেক বড় ব্যবসায়ীর চেয়ে ভালো।
ফুল কিনতে আসা তামান্না বেগম বলেন, আমি গোলাপ ফুল খুব ভালোবাসি আমার পছন্দের ফুল। পাঁচমাথা এলাকায় এমন ফুলের দোকান থাকায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। অনুষ্ঠানের আগে দূরে যেতে হয় না। খুব সহজে কম দামে হাতের নাগালেই পেয়ে থাকি।