
স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ রাজু শেখ
চট্টগ্রামে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত ঈমন দাশ (২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ দিন পর মৃত্যুবরণ করেছেন।
জানা যায়, গত ২৯ নভেম্বর রাতে ঈমন দাশের বাড়ির সামনে মরিয়ম ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন মাদক বিক্রেতা মাদক বিক্রি করতে গেলে তিনি বাধা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদক বিক্রেতাদের সঙ্গে ঈমনের হাতাহাতি ও বাকবিতণ্ডা হয়। এরই জেরে পরদিন ৩০ নভেম্বর ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে প্রতিশোধ নিতে সংঘবদ্ধভাবে ঈমন দাশের ওপর হামলা চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র কিরিচ দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ঈমন দাশকে গুরুতর জখম করে। হামলায় তার হাতের আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং হাত পা ভেঙ্গে দেয়।
ঈমন দাশের মা জানান:
“আমার ছেলের বাসার সামনে মাদক বিক্রি করতে চাইলে সে বাধা দেয়। সেই ঘটনার জের ধরে ভোরবেলা ওরা আমার ছেলেকে কুপিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়।”
আহত অবস্থায় প্রথমে ঈমন দাশকে সিএনজিযোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ প্রয়োজন হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। কয়েকদিন চিকিৎসার পর পুনরায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে টানা ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৪ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে চারটার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত ঈমন দাশের বাবা বলেন:
“আমার ছেলেকে বাঁচাতে গেলে পাঁচ থেকে ছয় জন আমাকে কিরিচ নিয়ে তাড়া করে। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।”
ঈমন দাশের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন:
“ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার স্বামী মাটিতে পড়ে আছে, ওরা তখনও ক্রিস দিয়ে কোপাচ্ছিল। আমার স্বামী শুধু ‘পানি, পানি’ বলে চিৎকার করছিল। পরে আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।”
তিনি আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের নাম উল্লেখ করে বলেন—নয়ন, হালিম, আজিম ও শরিফ।
তিনি এসব অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।