1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
শিশু-মা হত্যার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও আটক হয়নি আসামী, উৎকোচ দাবি করা এসআই তারেকের রহস্যজনক ভূমিকা ভাসুরের কুজনরে বলির পাঠায় প্রাণ গেল তরুণী সুমাইয়ার সর্বস্বান্ত মা - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
​সাতক্ষীরায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত: আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা জাসাসের বর্ণাঢ্য র‍্যালি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা পাঁচবিবিতে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন জেলা তথ্য অফিসারের সাথে বি.ডি.এফ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত জগন্নাথপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে  আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শেরপুর জেলা পুলিশের উদ্যাগে ‘গণিতকে করবো জয়”- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণিত উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত দুর্গাপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত সাংবাদিকদের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি

শিশু-মা হত্যার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও আটক হয়নি আসামী, উৎকোচ দাবি করা এসআই তারেকের রহস্যজনক ভূমিকা ভাসুরের কুজনরে বলির পাঠায় প্রাণ গেল তরুণী সুমাইয়ার সর্বস্বান্ত মা

এ কে এম বাদরুল আলম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  • ৬৩ বার পঠিত


এ, কে, এম বাদরুল আলম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে এক নারী ও তার ৮ মাসের শিশু হত্যার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও আসামীরা আটক না হওয়ায় এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিচারের দাবিতে মানববন্ধনের কাতারে হাজারো জনতার সামিল । মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনতলা মোড়ে কয়েক হাজার বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গতবছরের ২২ আগষ্ট শশুরবাড়িতে মারধর করে ব্যাপক নির্যাতনের পর জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয় গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের চরজোতপ্রতাপ এলাকার নাজিম উদ্দীনের মেয়ে সুমাইয়া খাতুনকে। ঘটনার পর ১৭ অক্টোবর নিহত সুমাইয়া খাতুনের মা ফাতেমা বেগম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামী করা হয় নিহতের স্বামী, শশুর-শাশুড়ীসহ ৬ জনকে। কিন্তু ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও কাউকে আটক করেনি পুলিশ। আসামীদের দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে না আসলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন বক্তারা।

মানববন্ধনে নিহত সুমাইয়া খাতুনের মা ও মামলার বাদি ফাতেমা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে যৌতুকের টাকার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল শশুরবাড়ির লোকজন। এরই ধারাবাহিকতায় গতবছরের ২২ আগষ্ট বেধড়ক মারধর করে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যা করে। এমনকি মৃত্যুর আগ মুহূর্তেও মুঠোফোনে সুমাইয়া আমাকে জানায়, তাকে অনেক মারধর ও নির্যাতন করে বিষ খাইয়েছে তার ভাসুর মোরসালিনসহ শশুর, শাশুড়ী, স্বামীসহ শশুরবাড়ির লোকজন।

তিনি আরও বলেন, হত্যার পর মামলা করতে গেলেও থানায় মামলা নেয়া হয়নি৷ পরে আদালতের শরণাপন্ন হলে মামলা নেয়া হয়। কিন্তু তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারেক মাহমুদ মামলা নেয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় সুমাইয়াকে হত্যার দেড় মাস পূর্বে তার গর্ভে থাকা ৮ মাসের বাচ্চাকেও তাদের ষড়যন্ত্রের মৃত্যুর স্বীকার শশুরবাড়ির লোকজনের নাটকীয় ভঙ্গিতে, এবিষয়ে এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আসামী ধরা বাদ দিয়ে পুলিশ উল্টো আমাকেই মামলার মিমাংসা করার জন্য চাপ দিচ্ছে।

নিহতের মামা ইয়াকুব আলী বলেন, সুমাইয়ার উপর কুনজর ছিল তার স্বামীর ভাই মোরসালিনের। বারবার তাকে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এ ঘটনা জানাজানি হলে ও যৌতুক না পেয়ে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পুরো পরিবার। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই। তাদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সরেজমিনে গিয়ে জানান, বিয়ের পর থেকেই নিহত সুমাইয়া খাতুনের শশুরবাড়ির লোকজন ব্যাপক নির্যাতন করে। এটি এলাকার প্রায় সবাই জানে। কিন্তু এমন একটি ঘটনার পরেও নিরব প্রশাসন। এমনকি একজন আসামীকেও আটক করেনি পুলিশ। অথচ আসামীরা কলার উড়িয়ে এলাকার ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যে।

নিহত সুমাইয়া খাতুনের স্বজনরা বলেন, সুমাইয়ার বাবা নেশাগ্রস্ত হওয়ায় ছোটতেই বাবা হারান। একমাত্র মা ও মেয়ে ছাড়া তাদের পরিবারে কেউ নেই। বাবা হারা মেয়েটা সুখের আশায় সংসার বেঁধেছিল। কিন্তু তার সংসারও সুখের হয়নি। তাকে সবসময়ই নির্যাতন করা হতো। এমনকি শেষ পর্যন্ত বিষ খাইয়ে হত্যা করে। এর উপযুক্ত বিচার হওয়া প্রয়োজন। সুখের সংসারে কাল হয়ে দাঁড়ায় ঘাতক ভাসুর মোরসালিনের কুনজর। স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে একাধিকবার তার ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা এলাকার সবার মুখে মুখে।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে নানারকম চাঞ্চল্যকর ঘটনা। জানা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্বেও বিয়ে করেননি সুমাইয়ার ভাসুর মোরসালিন। এলাকার একাধিক মেয়েকে কুপ্রস্তাব দেয়ার ঘটনাও ঘটে। আর এতেই ফাতেমা বেগমের একমাত্র মেয়েকে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়। মেয়েকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় অবস্থা তার। মেয়ের বিচারের দাবিতে ও আসামীদের আটক করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় এই নারী। তবে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার কারনে প্রশ্ন উঠেছে, অসহায় মা ফাতেমা বেগম ন্যায়বিচার পাবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন জনতার।

সূ্ত্র বলছে, মামলা হওয়ার পর তৎকালীন উপ-পরিদর্শক এসআই তারেক মাহমুদ আসামীদের সাথে সখ্যতার কারনে আটক করেননি। উল্টো তাদেরকে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিতেও সহযোগিতা করেছেন বলে অনুসন্ধানে পাওয়া যায়। তথ্য রয়েছে, তৎকালীন উপ-পরিদর্শক এসআই তারেক মাহমুদ বর্তমান মামলাটি তদন্ত করছেন ও বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আতিকুজ্জামান (বিপি-৭৯৯৮০৫১৪৭৩)। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নিহত সুমাইয়া খাতুনের মা ফাতেমা বেগম, সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম রেজা, স্থানীয় বাসিন্দা সাইরুল ইসলাম, সাদ্দাম হোসেন, মামা ইয়াকুব আলীসহ অন্যান্যরা এছাড়াও হাজারো জনতা।

মামলার আসামীরা হলেন, নিহত সুমাইয়ার স্বামী মো. মুর্শেদ (২২), শাশুড়ী ফিরো বেগম (৪৫), ভাসুর মো. মোরসালিন (২৪), শশুর কালিম আলী (৫০), চাচা শশুর আজিজুল হক (৪৭) ও চাচী শাশুড়ী আয়েশা বেগম (৪৪)। তবে উৎকোচ দাবিসহ মামলার এজাহারে কোন বিষয় অর্ন্তভুক্ত না করার অভিযোগটি অস্বীকার করেন গোমস্তাপুর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও বর্তমানে নাচোল থানায় কর্মরত এসআই তারেক মাহমুদ (বিপি-৯১১৯২২৩৯৪০)। মুঠোফোনে তিনি জানান, মামলা নেয়া বা না নেয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ ওসির এখতিয়ারভুক্ত। তদন্তে যা পাওয়া গেছিল, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।

গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল বাসার জানান, প্রধান আসামী ছাড়া বাকিরা উচ্চ আদালতে জামিন নিয়েছিল। আসামীদের ধরতে কাজ করছে পুলিশ। শীগ্রই তাদেরকে আটক করে আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসএম রুবেল সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ক্রাইম সিন টিম পর্ব- ১। মোবাইল নম্বর- ০১৭৫৬৯১১৯৪৬।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park