1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
যশোরের শীতের সকালটা যেন খেজুরের রস ছাড়া জমেই না - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
​সাতক্ষীরায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত: আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা জাসাসের বর্ণাঢ্য র‍্যালি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা পাঁচবিবিতে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন জেলা তথ্য অফিসারের সাথে বি.ডি.এফ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত জগন্নাথপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে  আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শেরপুর জেলা পুলিশের উদ্যাগে ‘গণিতকে করবো জয়”- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণিত উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত দুর্গাপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত সাংবাদিকদের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি

যশোরের শীতের সকালটা যেন খেজুরের রস ছাড়া জমেই না

দিপু মন্ডল -প্রতিনিধি যশোর
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫
  • ৫৩ বার পঠিত

দিপু মন্ডল -প্রতিনিধি যশোর

অদ্য ০৪/০১/২০২৫খ্রিঃ সকাল ১০.০০ঘটিকায়
যশোরের মনিরামপুরে উপজেলা পাঁচকাটিয়া গ্রামের শচীন মল্লিক(৫৮) তিনি জানাই ।যে আমি ১৯৮২ সাল থেকে আমি এই খেজুরের গাছ তোলা ও খেজুরের রস সংগ্রহ করে সেই রস দিয়ে খেজুরের গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে জীবন-জীবিকা নির্ভর করি ।
শীতকালীন খাদ্য তালিকায় প্রথমেই আসে খেজুরের রস (খেজুরের রস হচ্ছে খেজুরের গাছ থেকে আহুত মুখোরোচক পানীয়)। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালটা যেন খেজুরের রস ছাড়া জমেই না। শীত ও খেজুরের রস যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
সকাল বেলার ঠাণ্ডা, মিষ্টি খেজুরের রস যেনও অমৃত। এ ছাড়াও খেজুরের রসে রয়েছে প্রচুর খনিজ ও পুষ্টিগুণ। আর রসের তৈরী গুড় অনিদ্রা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এই রস নিয়ে শুধু মানুষই না, পক্ষীকূলও অপার আনন্দে মেতে উঠে।

বাংলা অগ্রহায়ণ মাস থেকে সাধারণত রস সংগ্রহ শুরু হয় এবং চলে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। তবে পৌষ ও মাঘ মাসে সবচেয়ে বেশি রস পাওয়া যায়। কারণ এই দুই মাসে শীতের প্রকোপ থাকে সবচেয়ে বেশি। আবহাওয়া যতো ঠাণ্ডা থাকে রসও ততো বেশি পাওয়া যায়। তাপমাত্রা বাড়ার সাথে রসও কমতে থাকে।

শীতের সকালে সূর্য উঠার আগেই গাছিরা গাছ থেকে রসের হাড়ি নামাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কুয়াশা ঘেরা সকালে গাছিদের কাঁধে করে হাড়ি ভরা রস নিয়ে যাওয়ার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য গ্রামীণ বাংলাদেশ ছাড়া আর পৃথিবীর কোথাও দেখা যায় না। এ ছবি মনে করিয়ে দেয় রং তুলিতে আঁকা শিল্পীর এক মনোরম চিত্রকর্মের কথা।
খেজুরের রস ও গুড় ছাড়া শীতের পিঠা যেন অপ্রকৃত ব্যাপার! শীতের সকালে গাছ থেকে নামানো কাঁচা রসের স্বাদ যেমন বর্ণনায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়; তেমনি জ্বাল করা রসের তৈরি বিভিন্ন খাবারের স্বাদ ও চাহিদাও অনেক। কুয়াশা মাখা সকালবেলা রসের তৈরি পায়েসের গন্ধে মু মু করে চারিদিক।

খেজুরের রসের পাটালি গুড়েরও বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে বাংলার ঘরে ঘরে। এই গুড় দিয়ে নানা রকম পিঠা তৈরি করা হয় গ্রামে। ভাপা, সিদ্ধপুলি, রসের চিতই এর মতো হরেক রকমের পিঠা। আর এই পিঠা বানানোকে ঘিরে শিশু-বৃদ্ধার বসে থাকার দৃশ্য বাংলার এক পুরনো সংস্কৃতিরই অংশ। মনে হয় শীত যতো বেশি, তাদের পিঠা খাওয়ার তৃপ্তি, আনন্দ ততো বেশি। এরূপ দৃশ্যকে কবি সুফিয়া কামাল চিত্রায়িত করে বলেন -‘পৌষ পবনে পিঠে খেতে বসে খুশিতে বিষম খেয়ে। বড় উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি খেয়ে।’
গত কয়েক বছরে অনেক খেজুর গাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে সব অঞ্চলে কম বেশি খেজুর গাছ থাকলেও গাছির অভাবে মিলছে না রস। নগরায়ন এর ফলে হারিয়ে যাচ্ছে গাছিরা। যারা আছে তারা রস ও গুড় বিক্রি করে তাদের সংসার চালাতে পারছে না। তাই এ কাজের প্রতিও তাদের তেমন কোন আগ্রহ নেই। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অনেক অঞ্চল থেকে গাছি আর রস দুটিই বিলুপ্ত হয়েছে। এখনো খেজুরের রসের চাহিদা থাকলেও আগের সেই আগ্রহ যেনও হারিয়ে গেছে!

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park