
পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার সিএনবি বগুড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ‘খান আবাসিক হোটেলে’ বহিরাগত মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের তাণ্ডব চরম আকার ধারণ করেছে। হোটেলে অবস্থানরত বর্ডার ও ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, টাকা-মোবাইল ছিনতাই এবং হোটেলের ফ্লোরে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে একটি চিহ্নিত চক্রের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদ করায় হোটেলের মালিক ও তাঁর স্বজনদের মারধরসহ জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে খান আবাসিক হোটেলের মালিক ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মনজেল খান জানান, তাঁর ভবনের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত আবাসিক হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা তিনি ও তাঁর ছেলে মিজানুর রহমান (৪০) পরিচালনা করে আসছেন। কিছুদিন ধরে সাঁথিয়া উপজেলার করমজা সরদারপাড়ার কয়েকজন প্রভাবশালী ও বখাটে যুবক নিয়মিত তাঁর হোটেলে প্রবেশ করে অরাজকতা সৃষ্টি করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত যুবকেরা নিয়মিত হোটেলের ফ্লোরে আড্ডা জমিয়ে মাদক সেবন করে। এর প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ীকে ও তাঁর ছেলেকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
গত ২২ আগস্ট বহিরাগত সন্ত্রাসী চক্রটি হোটেলের এক ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে জোরপূর্বক প্রায় ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। আবার গত ২৭ আগস্ট এক ভাড়াটিয়াকে চাকুর ভয় দেখিয়ে নগদ ৫ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
আজ (৩১ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযুক্তরা ভবনের নিচে প্রকাশ্যে মাদক সেবন শুরু করলে আলহাজ্ব মনজেল খান এতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করে। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় করমজা সরদারপাড়ার হারেজের ছেলে শাহ আলমকে (৩৫) হোটেলের ভেতরে আটক করে সাঁথিয়া থানা পুলিশে খবর দেওয়া হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত শাহ আলমের কয়েকজন নেতাকর্মী জোরপূর্বক এসে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও জানা যায়, করমজা সরদারপাড়ার মোহাম্মদ মধু মোল্লার ছেলে মোঃ রাকিবের বিরুদ্ধেও এলাকায় মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মনজেল খান জানান, সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে করমজা বণিক সমিতিকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে এবং তাঁদের পরামর্শক্রমেই সাঁথিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর বড় ছেলে মোঃ গোলাম মোস্তফা।
সাথিয়া থানার ওসি কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরে জমিনে তদন্ত করা হয়েছে, বাদী কে ডাকা হয়েছে, বাদীর সাথে কথা বলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বর্তমানে ব্যবসায়ী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই পরিস্থিতিতে সাঁথিয়া সিএনবি সংলগ্ন এলাকায় মাদকের ভয়াল থাবা ও ছিনতাইকারীদের দাপট বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আশু হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সচেতন মহল।