1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এটিএম আজহারের মুক্তির দাবিতে হবিগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ কর্মসূচি - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
এনায়েতপুরের বেতিল মহাশ্মশানের নব-নির্মিত চুলা ও ঘরের সেড এর ফলক উন্মোচন জগন্নাথপুরে ৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন ত্রিশালে ভেজাল পশুখাদ্য তৈরির প্রতিষ্ঠানে অভিযান, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা এবার গাইবান্ধায় পরীমনিকে বয়কটের ঘোষণা, সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ প্রথম ধাপে ১০৫০ ইউপিতে ভোট, সদর উপজেলার ইউনিয়নগুলোকে অগ্রাধিকার: ইসি সচিব জগন্নাথপুরে শ্রী শ্রী কালীপূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে শিশুদের বর্ণাঢ্য চিত্রান্কন প্রতিযোগীতা সাতক্ষীরায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত। চারঘাটে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হাউলী ইউনিয়নে টিসিবি কার্ডধারীদের মাঝে স্বল্পমূল্যে টিসিবি পণ্য বিক্রি ​সাতক্ষীরায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত: আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ।

যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এটিএম আজহারের মুক্তির দাবিতে হবিগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ কর্মসূচি

সফিকুল ইসলাম নাহিদ
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  • ৮৪ বার পঠিত

মো: সফিকুল ইসলাম নাহিদ নবীগঞ্জ থেকে:

যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হবিগঞ্জ জেলা শাখা। মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে হবিগঞ্জ কোর্টের সামনে প্রথমে সমাবেশ করেন। পরে কোর্টের সামন থেকে মিছিল শুরু করে শহরের গুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। হবিগঞ্জ জেলা আমীর মুখলিছুর রহমান এর সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ কাজী মহসিন আহমদ এর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম, জেলা বায়তুল মাল সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস শহীদ, জেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা তাসলিম আলম মাহদী, মাধবপুর উপজেলা আমীর মাওলানা আলাউদ্দিন ভূঁইয়া, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা আমীর হাজী আব্দুল কুদ্দুস, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা আমীর মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ জহির, বানিয়াচং উপজেলা আমীর ডাঃ তালেব উদ্দিন খন্দকার, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আমীর মাওলানা নাছির উদ্দিন চৌধুরী, জেলা শিবিরের সভাপতি মো. হুসাইন আহমদ, সেক্রেটারি মো, লায়েক আহমদ প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, আজ অর্ন্তবর্তী সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ৬ মাস ১০ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে এই প্রথম আজ জামায়াতে ইসলামী রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর দেশবাসী আশা করেছিল তারা সকল প্রকার জুলুম নির্যাতন থেকে উদ্ধার পাবে। যারা মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক ছিলেন তারা মুক্তি পাবে। শেখ হাসিনার পতনের পর অনেকে মুক্তি পেলেও মুক্তি পাননি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জননেতা এটিএম

আজহারুল ইসলাম।অর্ন্তর্বতী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ৬ মাস ১০ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। দেশের মানুষ আশা করেছিলেন এ সময়ের মধ্যেই এটিএম আজহারুল ইসলাম মুক্তি পাবেন। কিন্তু তার মুক্তি না হওয়ায় দেশবাসী বিস্মিত ও হতবাক। আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত তার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। দেশবাসী অবগত আছেন যে, আওয়ামী লীগ সরকার বিগত ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জামায়াতের দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরার পথে সংগঠনের তদানীন্তন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। রিমান্ডে নিয়ে তাঁর ওপর চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে ন্যূনতম চিকিৎসা সেবাটুকুও দেয়া হয়নি। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১২ সালে তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করার পর নিজ বাসায় অবস্থানকালে পুলিশ তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে রাখে। তাঁর বাড়ির চতুর্দিকে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় সহকর্মীদেরকে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। আওয়ামী সরকার এটিএম আজহারুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আবারো তাঁকে বাসা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।বক্তারা আরও বলেন, আওয়ামী সরকার দলীয় লোকদের দ্বারা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো সাক্ষ্য প্রদান করে। একজন সাক্ষী আদালতে বলেছেন যে, তিনি ৭ কিলোমিটার দূর থেকে এবং অপর আরেক সাক্ষী বলেছেন যে, তিনি ৩ কিলোমিটার দূর থেকে ঘটনা দেখেছেন। সাক্ষীদের এই বক্তব্য অবাস্তব ও হাস্যকর। আরেকজন সাক্ষী নিজেকে আজহার সাহেবের ক্লাসমেট দাবি করে আদালতে আজহার সাহেবের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। আদালতে উপস্থাপিত ডকুমেন্ট অনুযায়ী আজহারুল ইসলাম ১৯৬৮ সালে কারমাইকেল কলেজ ত্যাগ করেন। আর কথিত সাক্ষী ১৯৭০ সালে কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হন। অতএব, আজহারুল ইসলামকে ওই সাক্ষী তাঁর ক্লাসমেট হওয়ার যে দাবি করেছেন, তা মিথ্যা। এ ধরনের মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।বক্তারা আরোও বলেন, এটিএম আজহারুল ইসলাম ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করেন। আপিল বিভাগের চারজন বিচারপতির মধ্যে তিনজন বিচারপতি ট্রাইবুনালের রায় বহাল রাখলেও একজন বিচারপতি এ রায়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। এটিএম আজহারুল ইসলাম সেখানেও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হন।২০২৪ সালে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যায়। দেশ স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তিলাভ করে। রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় ফ্যাসিস্ট সরকারের গ্রেফতারকৃত অনেক নেতাকর্মী মুক্তিলাভ করেন। রাষ্ট্রপতির আদেশে অনেককে তৎক্ষণাৎ মুক্তি দেওয়া হয়। দেশবাসী আশা করেছিল যে, চরম জুলুম-নির্যাতনের শিকার এটিএম আজহারুল ইসলাম স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশে মুক্তিলাভ করবেন। কিন্তু অর্ন্তর্বতী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ৬ মাস ১০ দিন অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও আজহারুল ইসলাম মুক্তিলাভ করেননি। জামায়াত স্বৈরশাসনামলে জুলুম এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আর স্বৈরশাসন মুক্ত বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী এখনো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে বিচারিক কার্যক্রমসমূহ সারা বিশ্বে বিতর্কিত, প্রশ্নবিদ্ধ ও প্রত্যাখ্যাত। স্বৈরাচারের আমলে গ্রেফতারকৃত এটিএম আজহারুল ইসলামকে কারাগারে আটক রাখা তার প্রতি চরম জুলুম ও অন্যায় ছাড়া আর কিছুই নয়। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে তাঁকে এখনো আটক রাখায় জাতি বিস্মিত ও হতবাক। দেশবাসী স্বৈরাচারের কবল থেকে পরিপূর্ণভাবে মুক্তি চায়। এই পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমরা অর্ন্তর্বতী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।সমাবেশ শেষে একটি বিশাল সুশৃংখল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের চৌধুরী বাজার মোড় হয়ে কোর্টের সামন গিয়ে শেষ হয় । মিছিল পরবর্তী সমাবেশে জেলা আমির সম্মানিত মিডিয়া কর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপস্থিত সকল জনশক্তি ও হবিগঞ্জ বাসীকে আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। সমাবেশ ও মিছিলে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কয়েক হাজার নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহণ করেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park