1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
ভূমিকম্প থেকে বাঁচতে ভূমিকম্পের সময় প্রাথমিক কাজ এবং পূর্ব প্রস্তুতি - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথপুরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জে চলন্ত ট্রেনে ছিনতাইকারী শনাক্ত, গ্রেপ্তারের চেষ্টা দিরাইয়ে প্রবাসীর কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সৎ ভাই-বোনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে  মামলা সাতক্ষীরা জেলা সহ খুলনা বিভাগের সর্বোচ্চ সংখ্যাক জেলার দ্বায়িত্ব এখন এনসিপির প্রথম নারী সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিন ইরার কাঁধে। হরিপুর সীমান্তে ১৬৫ বোতল মদ উদ্ধার ময়মনসিংহ মেডিকেলের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ-ক্যানুলা ময়লার গুদামে, উঠছে নানা প্রশ্ন সেন্টমার্টিনে বিদ্যুতের হাহাকার, দিনে মেলে মাত্র ৪ ঘণ্টা কয়েক দিন পরপর বাড়ে ইউনিটপ্রতি দাম ময়মনসিংহে বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন ।

ভূমিকম্প থেকে বাঁচতে ভূমিকম্পের সময় প্রাথমিক কাজ এবং পূর্ব প্রস্তুতি

মো ইয়াকুব আলী তালুকদার স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৬ বার পঠিত

মো ইয়াকুব আলী তালুকদার
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর

ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ। ইচ্ছে করলেই মানুষ ভূমিকম্পের সাথে যুদ্ধ করে তাকে পরাজিত করতে পারে না বা প্রতিহতও করতে পারে না। তবে ভূমিকম্প থেকে সাধারণ ও সচেতন এবং পূর্ব পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রস্তুতি গ্রহণ করা যায়। যাতে ভূমিকম্প থেকে জানমালের নিরাপত্তা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনায়াসে হ্রাস করা সম্ভব।

বাংলাদেশে গত ২১ তারিখের ভূমিকম্পে বিল্ডিং ভেঙে পরে নেই কিন্তু অশচেতনতার জন্য বেশ কয়েক জন মারা গিয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন তাড়াহুড়ো করে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সময়। আবার ২২ নভেম্বরে সারা দিন ৩/৪ বার ভূমিকম্প সৃষ্টি। মানুষের মধ্যে এক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাঁচানোর মালিক একমত আল্লাহর। কিন্তু সাবধান ও সচেতন এবং পূর্ব প্রস্তুতি থাকতে হবে আমাদের।

ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা এবং অপরিকল্পিত বিল্ডিং নির্মাণ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বিল্ডিং রুলস্ অমান্য করে ভবন নির্মাণ, দূর্বল বা গুণগত মানহীন কাঁচামাল ব্যবহার করে বিল্ডিং নির্মাণ, সব মিলিয়ে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাহীন জীবন ধারণ ব্যবস্থা। প্রতিনিয়ত ঝুকিপূর্ণ ঢাকাসহ ঢাকার আশেপাশের এলাকা।

এজন্যই প্রাথমিকভাবে কিছু বিষয় জেনে রাখা আমাদের জরুরী –
উপরের তলা (৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম) থাকলে মানুষ প্রায়ই সিঁড়ি ধরে নেমে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু বাস্তবতা উপরের তলা ভেঙে নিচের তলা পড়তে পারে, নিচের তলা ভেঙে কখনো উপর তলায় পড়বে না। কম্পন শুরু হলে সিঁড়ি বা বারান্দায় যাওয়া বিপজ্জনক। বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না! সিঁড়িতে লোকের ভীড়, ধাক্কাধাক্কি, অন্ধকার – ৯০% মানুষ সিঁড়িতেই মারা যায় বা আহত হয়।

বেডরুমে থাকলে খাটের নিচে, ড্রয়িং বা ডাইনিং-এ থাকলে মজবুত টেবিলের নিচে, কোনো আশ্রয় না পেলে দেয়ালের কোণে বসে মাথা ও ঘাড় ঢেকে রাখুন! বারান্দায় যাবেন না—রেলিং ভেঙে পড়তে পারে। বাথরুম নিরাপদ হতে পারে; বালতি উল্টো করে মাথার ওপর দিয়ে বসে থাকলে অনেকে বেঁচেছে! হেলমেট, বালতি, ঝুড়ি, ব্যাগ—যা খুঁজে পাবেন মাথার ওপর রাখুন।

যদি আপনি ১ম/২য় তলায় থাকেন (এটাই সবচেয়ে ভাগ্যবান):
কম্পন শুরু হলেই দরজা খুলে রাখুন (দরজা জ্যাম হলে বের হতে পারবেন না) ১৫-২০ সেকেন্ডের মধ্যে সিঁড়ি দিয়ে নেমে রাস্তায় চলে আসুন কিন্তু রাস্তায় এসে বিল্ডিং-এর গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না – ১০০ ফুট বা তারও অধিক নিরাপদ দূরে সরে যান! ভবন ছেড়ে খোলা মাঠে চলে যান!

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে গেলে চিৎকার করবেন না—ধুলো ঢোকে, গলা শুকায়, হুইসেল থাকলে বাজান, না থাকলে দেয়ালে বা পাইপে ৩ বার টোকা দিন (আন্তর্জাতিক রেসকিউ সিগন্যাল) মোবাইল টর্চ অন রাখুন, কথা বলবেন না—ব্যাটারি বাঁচান, মুখে কাপড় চেপে ধরুন, ধুলো ঢোকা কমবে!

আজ থেকেই যা করবেন, বিছানার পাশে জুতা রাখুন, বেডের পাশে হেলমেট ও হুইসেল রাখুন, ভারী আলমারি, টিভি বা ফ্রিজের অবস্থান এমন রাখুন যাতে পড়ে গেলে আঘাত না হয়, গ্যাস সিলিন্ডার চেইন দিয়ে বেঁধে রাখুন, দরজা কখনো অটো-লক হবে না, চাবি কাছে রাখুন!

ঢাকা, একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহর, যেখানে ৫ থেকে ৭ তলার অ্যাপার্টমেন্টগুলো শহরের প্রধান আবাসন। একটি লাইন মনে রাখুন:

যদি ৪র্থ তলার উপরে থাকেন তাহলে– দৌড়াবেন না, শুধু টেবিল বা বিছানার নিচে ঢুকে পড়বেন।যদি ১ম-২য় তলায় থাকেন — প্রথম ২০ সেকেন্ডে বের হয়ে যাবেন।
প্রস্তুতি ছাড়া ঢাকায় ভূমিকম্প হলে বেঁচে থাকা ভাগ্যের উপর। প্রস্তুতি থাকলে বেঁচে থাকা ভাগ্যের হাতে।

জীবনকে কখনও কখনও খুব কঠিনভাবে মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতি কত শক্তিশালী, আর মানুষ কত সহজেই ভেঙে যেতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের কিছু করার থাকে না, কিন্তু একটু সচেতনতা, একটু সাবধানতা, একটু প্রস্তুতি, তাৎক্ষণিক বা উপস্থিত বুদ্ধি অনেক বড় বড় বিপদ থেকে হেফাজত করে !

দুর্যোগ দেখলে বোঝা যায়!
জীবন মানে শুধু শ্বাস নেওয়া নয়,
জীবন মানে সচেতন থাকা, সাবধান থাকা, পূর্ব প্রস্তুতি রাখা।
আর প্রতিটি মুহূর্তকে সম্মান করা, যেন এটাই শেষ সুযোগ, এটাই শেষ সময়।
তাই রাস্ট্রীয় বিধিনিষেধ মেনে ভবন নির্মাণ, সামাজিক সম্পর্ক বজায় রেখে নিরাপদ মজবুত ও শক্ত কাঠামো তৈরী করা। নিরাপত্তার জন্য সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। পূর্ব প্রস্তুতিই পারে ভূমিকম্পের ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করতে।

তাই শেষ কথা জীবন অনিশ্চিত, কিন্তু কৃতজ্ঞতা নিশ্চিত। যা আছে, যতটুকু আছে—সেটাই আমাদের শক্তি। এবং সেই শক্তির নামই—আলহামদুলিল্লাহ। লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ জলেমিন! বিপদের সময় এবং নিয়মিত এই দোয়া পড়তে হয়।
হে আল্লাহ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আপনি আমাদের হেফাজত করুন আমিন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park