
মো ইয়াকুব আলী তালুকদার,স্টাফ রিপোর্টার
আলোচনা সমালোচনার তীব্র ঝড়ে ইতিমধ্যে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মো তাইজুল ইসলাম বিভিন্ন ফেসবুক, ইউটিউব, সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। প্রথম দিকে তাকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে সোস্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা ও ট্রল ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়ে আলোচনার এক শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
নেই বড় কোন সার্টিফিকেট, নেই কোন প্রশিক্ষণ, সাধু বা চলিত ভাষা না জানা, সাদামাটা, সরল সোজা, গ্রাম্য সব এলোমেলো কথার ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই সোস্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন সে কোন সাংবাদিক! আর এমন সাংবাদিকতা সাংবাদিক জগতের এক কলঙ্ক। অনেকেই নানা তিরস্কার ও ট্রল করে নিজের ফেসবুক ও ফেসবুক পেজ এবং বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। মুহুর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়।
বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের নজরে আসলে তারা তার বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে থাকেন। এক পর্যায়ে তার আসল রহস্য ও জীবন ইতিহাস বেরিয়ে আসে।
জীবনের অনেক দুঃখ কষ্ট নিয়ে পথচলা। এমনকি নিজের প্রিয়তমা স্ত্রীও জীবন থেকে চলে গেছেন। প্রতিবন্ধী মা-বাবা সঙ্গে নিয়ে আট সদস্যদের একটি পরিবার। জীবন চালাতে হয় নির্মাণ কাজের হেল্পারী করে। তবুও জীবন থেকে অভাব আর দুঃখ কষ্ট সরেনি। ফুফাতো ভাইয়ের বাড়িতে ভাঙ্গা একটি ঘরে তার বসবাস। এই ঘরটিও ভেঙ্গে গেলে আর কোন উপায় থাকবে না তার। জোটেনা পেটে ঠিক মতো ভাত। জীবন যুদ্ধে পরাজিত এক সৈনিক সমাজের এক মহান দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নিজে নিজেই জনকল্যাণে কাজ করছেন।
দেশে অসংখ্য নিউজ মিডিয়া চ্যানেল এবং অসংখ্য গণমাধ্যম কর্মী থাকলেও তার এলাকার কোন সমস্যার নিউজ করে না কেউই। জীবনের এমন দুঃখ কষ্টে ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে সকল দুঃখ ভুলে থাকার জন্যই এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তৈরী করা শুরু করেন কন্টেন্ট ভিডিও। তবুও তার জীবন থেকে সীমাহীন দুঃখ কষ্ট দূর হয়নি।
আরটিভি এবং সময় টিভির এক স্বাক্ষাৎকারে জীবনের কথা গুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন তিনি। তিনি বলেন আমার জীবনের দুঃখ কষ্ট ভূলে থাকার জন্য আমি ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, আমার ভূল হতেই পারে। আপনারা আমাকে নিয়ে ট্রল করেন আমি তাতে কষ্ট পাইনা। আমাদের এই নারায়ণপুর চর এলাকায় কোন সাংবাদিক আসে না। মানুষের কষ্টের খবর প্রকাশ করে না। আমি তাদের আসার জন্যই ভিডিও করি। আমাকে যতোই ট্রল করুক আমি কষ্ট পাইনা। তবু যেন আমার এলাকার মানুষের কষ্ট দূর হয়। ভাঙ্গা গলায় কথা গুলো বলেন আর কেঁদে ফেলেন।
সত্যিই তার এই কর্মকাণ্ড দেশের অসংখ্য সচেতন সামাজিক সুশীল এবং অসাধু হলুদ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠিন আঘাত। নিজে থেকেই এমন মানবিকতা আর সমাজ প্রেম দেশের সমস্ত মানুষকে বিমোহিত করেছে। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে মানুষ হিসেবে তার দায়িত্ব কি! আদৌ কি তাইজুল ইসলামের জীবন থেকে দূরীভূত হবে দুঃখ কষ্ট! দেশের সোস্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য মানুষ তার প্রসংশা করছে।
অসংখ্য মানুষ তার জীবনের মঙ্গল কামনা করছে। হয়তো তার পাশে যদি কেউ দাঁড়ায় সে একদিন অনেক বড় সাংবাদিক হতে পারবে। তার জীবন থেকে সকল দুঃখ কষ্ট দূর হয়ে যাবে। এমন প্রত্যাশাই সকলের।