1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
দুই প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে, মানবেতর জীবন পার করছেন হতদরিদ্র সাবিনা। - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মিলল না অনুমতি, টিকিট কেনার পরও বৃহস্পতিবার যাওয়া যাচ্ছে না সেন্টমার্টিন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ভৈরব নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত উলিপুরে দলদলিয়া নাগরিক ফোরামের ৭ম বর্ষে পদার্পণ,আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত দিরাইয়ে প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষ আহত ২০ সাতক্ষীরায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’-এর উদ্বোধন, শিবিরের শুভেচ্ছা। চুয়াডাঙ্গায় ১০১ পিস বুপ্রেনরফিন উদ্ধার মামলায় আসামির যাবজ্জীবন সেন্টমার্টিনে ৩০০ হোটেল, ফায়ার ছাড়পত্র শূন্য! পাঁচবিবিতে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ​সাতক্ষীরায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’ পত্রিকার শুভ উদ্বোধন। নারী পুরুষ সমান অধিকার না-কি বৈষম্য বিভেদ আর অশান্তির আস্তা কুড়ে ঘর।

দুই প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে, মানবেতর জীবন পার করছেন হতদরিদ্র সাবিনা।

মোঃ তরিকুল ইসলাম দুর্গাপুর নেত্রকোনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৭৮ বার পঠিত

মোঃ তরিকুল ইসলাম দুর্গাপুর নেত্রকোনা প্রতিনিধি

একটি নিরাপদ ঘর যেখানে নিশ্চিন্তে মাথা রেখে রাত কাটানো যায়, সন্তানদের বুকে আগলে রেখে সংসারের স্বপ্ন দেখা যায়। কিন্তু এমন একটি স্বপ্নও আজ অধরাই রয়ে গেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়ন এর ফুলপুর গ্রামের বাসিন্দা মকবুল (৬৭) ও তাঁর স্ত্রী সাবিনা (৫০) ‘র পরিবারের কাছে।

বৃদ্ধ বয়সে জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতায় প্রতিদিন লড়াই করে বেঁচে আছেন এই দম্পতি। তাঁদের সংসারে রয়েছে চার কন্যা সন্তান, যার মধ্যে দুইজন প্রতিবন্ধী। সীমাহীন দারিদ্রতা, অনিশ্চিত আয় এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের লালন-পালনের ভার যেন প্রতিনিয়ত তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

পরিবারটির বসবাসের একমাত্র আশ্রয় একটি জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ঘর। সামান্য বৃষ্টি শুরু হলেই ঘরের চাল দিয়ে ঝর্ণার মতো পানি পড়তে থাকে। ঘরের ভেতরে শুকনো থাকার মতো কোনো জায়গা থাকে না। বিছানা, কাপড়-চোপড়, খাবারÑসবকিছুই ভিজে যায়। রাতভর বালতি, হাঁড়ি-পাতিল দিয়ে পানি সামলেও শেষ রক্ষা হয় না। কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো ভেজা বিছানায় বসেই কেটে যায় নির্ঘুম রাত।

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মকবুলের চোখে আজও একটাই স্বপ্ন, পরিবারকে একটি নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া। কিন্তু অভাবের কাছে সেই স্বপ্ন বারবার ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। অন্যদিকে দুই প্রতিবন্ধী কন্যার চিকিৎসা, খাবার এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে পরিবারটি চরম অসহায়ত্বের মাঝে দিন পার করছে।

অসহায় পরিবারকে নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ, আতাউর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মোঃ খোকন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি অবর্ণনীয় কষ্টে জীবনযাপন করছে। বহুবার সহযোগিতার আশায় বিভিন্ন দপ্তরের দিকে তাকিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। আমাদের দাবি, মানবিক বিবেচনায় পরিবারটির জন্য দ্রুত একটি টেকসই বাসগৃহ নির্মাণ, প্রতিবন্ধী সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া এখন সময়ের দাবী।

একটি রাষ্ট্র তখনই মানবিক হয়ে ওঠে, যখন সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটে। মকবুলের পরিবার আজ কোনো বিলাসিতা চায় না; তারা শুধু চায় বৃষ্টি এলে যেন মাথার ওপরের ছাউনীটি ভেঙে না পড়ে, আর চার দেয়ালের ভেতরে যেন নিরাপদে বেঁচে থাকার সামান্য নিশ্চয়তা থাকে। এখন দেখার বিষয়, এই অসহায় পরিবারের কান্না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের বিত্তবান মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে কি না ??

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park