
আবুল হাশেম: দামুড়হুদা উপজেলা প্রতিনিধি (চুয়াডাঙ্গা)
বিকাশের কিস্তির টাকা খোয়ালেন অসুস্থ দোকানি আসমান আলী; এলাকায় চুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা
চুয়াডাঙ্গা সদর: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাইদঘাট স্কুলপাড়ায় গভীর রাতে একটি দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে।
চোরের দল দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে নগদ প্রায় ১ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে পালিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এই ঘটনাটি ঘটে।
এই ঘটনায় দোকানের মালিক আসমান আলী সর্বস্ব হারিয়ে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন।
দোকান মালিক আসমান আলী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি প্রতিদিনের মতো রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে পাশের রুমে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে তার বাবা নামাজ শেষে ফিরে এসে দোকানের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।
এরপর দোকানে গিয়ে দেখা যায় ভেতরের সবকিছু এলোমেলো।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানি আসমান আলী কণ্ঠ ভার করে জানান, চোরের দল তার দোকান থেকে বিকাশের প্রায় ৮১ হাজার টাকা এবং মুদি দোকানের নগদ ২০ হাজার টাকাসহ মোট প্রায় ১ লাখ ১ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমি টাকা ঘরে নিয়ে যাইনি— দোকানের সাথেই রুম, তাই ভাবিনি এমন কিছু হবে।”
আসমান আলী আরও জানান, সম্প্রতি তিনি কিস্তি তুলে বিকাশের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু গভীর রাতের এই চুরির ঘটনায় একরাতেই তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, “আমি অসুস্থ মানুষ, অনেক কষ্টে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। এখন পুরোটাই শেষ হয়ে গেল।”
ঘটনাস্থলের প্রতিবেশী এক বাসিন্দা জানান, গাইদঘাট এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। এর আগেও এলাকার কয়েকটি দোকানে চুরি হয়েছে।
তবে পাড়ার ভেতরে এভাবে তালা ভেঙে দোকান ভাঙার ঘটনা সত্যিই অকল্পনীয় এবং উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, “আমরা চাই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিক, যাতে সাধারণ মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারে।”
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) খালেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছি।
তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকাটিতে রাতে পুলিশের টহল না থাকায় চুরির ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে।
তারা প্রশাসনকে টহল ব্যবস্থা জোরদার করার এবং এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেফতার করে তাদের চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধারের ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।