
বেবি চক্রবর্ত্তী: কলকাতা:- ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র আতঙ্গে ত্রস্ত ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ। ইতিমধ্যেই দাপট বাড়াচ্ছে দানা। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দুই রাজ্যই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি সেরেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্ভাব্য আশঙ্কার কথা জানান, পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তারও খতিয়ান দিয়েছেন। ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ঘূর্ণিঝড় তাণ্ডব চালাবে অন্ধ্রপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ়, বিহার এবং তামিলনাড়ুতে। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে।বৈঠকে তিনি জানান, উপকূলবর্তী এলাকা থেকে ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার ৯৪১ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৮৩৭ জনকে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘূর্ণিঝড় থেকে মানুষকে রক্ষা করতে ৮৫১টা ক্যাম্প চালানো হচ্ছে। রিরিফ ক্যাম্পে প্রায় ৮৬ হাজার লোক রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার আসায় ফ্লাড রিলিফ সেন্টার তৈরি করেছি। ওখানে অনেকে এসে ওঠেন। ২৪X৭ হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। আজ রাতে প্রতি জেলায় ব্লকে নজর রাখা হবে। কখন চলে আসবে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না, তাই আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। সবচেয়ে দামী মানুষের জীবন।ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে বুধবার সকাল থেকে কলকাতা-সহ উপকূলীয় এলাকার আকাশ মেঘলা। বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে আবহাওয়া দফতরের তরফে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার রাত বাড়লেই বাংলাতেও দাপট দেখাতে শুরু করবে ঘূর্ণিঝড় দানা। এমন পরিস্থিতিতে নিজে নবান্নে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি মন্ত্রীদের নিজের নিজের এলাকায় নজর রাখতে বলেছেন।তিনি আরও বলেন, ‘এই কারণে স্কুল ছুটি দেওয়া হয়েছে। নবান্নতে আমি রাতে থাকবো। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের সকলে কাজ করবেন। আমি যেতেও পারি। ল্যান্ডফল যতক্ষণ না হচ্ছে আমরা নজর রাখব। জেলার সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে। প্যানিক করবেন না। সতর্ক থাকুন। গুজব, কুৎসা, প্ররোচনায় কান দেবেন না।’
নবান্ন হেল্পলাইন নম্বর033-2214-3526। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ দফতর-সহ সমস্ত জরুরি দফতর র্মরত থাকূেন এই দুর্যোগ মোকাবিলায়। সমুদ্র ভ্রমণ, মৎসজীবীদেরও এদিন ফের একবার সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যা পরিস্থিতির কথাও মনে করিয়ে। তোপ দাগেন কেন্দ্রকেও।