
মোঃ আতাউর রহমান
বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:-
দেখতে হুবহু খাঁটি দুধের ছানার মিষ্টির মতো, তবে তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে সাধারণ আলু। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দেউলিয়া চৌরাস্তায় স্থানীয় কারিগর মাহবুবুর রহমানের হাতের এই সুমিষ্ট ও সুস্বাদু ‘আলুর গোল্লা’ এখন পুরো অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক চমক সৃষ্টি করেছে। বাগমারার এই ভিন্নধর্মী মিষ্টির স্বাদ নিতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন শত শত ভোজনরসিক মানুষ।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় ৪৫-৫০ বছর আগে বাগমারার গ্রামীণ হাটে আলুর গোল্লা, আলুর পিঠা, গুড়ের শিরায় ভেজানো সাতপুতি পিঠা, পাকান ও পাটিসাপটার মতো হরেক রকমের ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলির প্রচলন ছিল। কালের বিবর্তনে এসব হারিয়ে গেলেও দীর্ঘদিন পর দেউলিয়া চৌরাস্তায় আবারও ‘আলুর গোল্লা’র দেখা মেলায় উচ্ছ্বসিত প্রবীণ ও নবীন ক্রেতারা। অনেকেই নিজে খাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের জন্য বাড়িতেও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন এই মিষ্টি।
ব্যতিক্রমী এই মিষ্টির কারিগর মাহবুবুর রহমান জানান, বাগমারা ও আশেপাশের মানুষকে সম্পূর্ণ নির্ভেজাল ও সুমিষ্ট আলুর গোল্লা খাওয়ানোর ইচ্ছা থেকেই তিনি এই পেশায় এসেছেন। এটি তৈরি করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন— দেশি আলু, হল্যান্ডের লাল আলু কিংবা বার্মার আলু সেদ্ধ করে প্রথমে ছানার মতো নরম করে মথে নিতে হয়। এরপর গোল গোল আকৃতি দিয়ে গরম সয়াবিন তেলে নিপুণভাবে ভাজতে হয়। ভাজা শেষে চিনির শিরায় বেশ কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখলেই তৈরি হয়ে যায় রসে টইটম্বুর সুস্বাদু আলুর গোল্লা।
বর্তমানে প্রতি কেজি আলুর গোল্লা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫০ টাকা দরে। সুলভ মূল্য ও চমৎকার স্বাদের কারণে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে দূরপাল্লার ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস এমনকি ট্রাক চালকরাও গাড়ি থামিয়ে লাইন ধরে এই গোল্লা খাচ্ছেন। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পাঠানোর জন্য অনেকে ১ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত মিষ্টি কিনছেন। অনেকে আবার মোবাইলে অগ্রিম অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করছেন।
দেউলিয়া চৌরাস্তা মোড়টি ভৌগোলিকভাবে বেশ চমৎকার একটি স্থানে অবস্থিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এই চৌরাস্তায় এসে একদিকে যেমন মানুষ যাতায়াতের ক্লান্তি দূর করছেন, অন্যদিকে উপভোগ করছেন সুস্বাদু আলুর গোল্লা। বিশেষ করে প্রতি সোমবার ও শুক্রবার ঐতিহ্যবাহী ভবানীগঞ্জ হাটের দিনে এখানে ক্রেতাদের উপস্থিতি ও বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
বর্তমানে এই আলুর গোল্লার সুখ্যাতি শুধু বাগমারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী দুর্গাপুর, মোহনপুর, পবা, আত্রাই ও মান্দা উপজেলার গ্রামগঞ্জেও। আলুর গোল্লা বিক্রি করে কারিগর মাহবুবুর রহমান এখন বেশ লাভবান এবং তার জীবন-সংসার বেশ সচ্ছলভাবে চলছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মাহবুবুর রহমান জানান, আলুর গোল্লার পাশাপাশি আগামী শীত মৌসুমে তিনি ঐতিহ্যবাহী আলুর পিঠাও তৈরি করতে চান। সব শ্রেণী ও পেশার মানুষের মুখে এই আদি ও নির্ভেজাল স্বাদ তুলে দিতে পারলেই তার এই প্রচেষ্টা সার্থক হবে বলে তিনি মনে করেন।