
শফিকুল ইসলাম, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল):
বরিশালের বাকেরগঞ্জে নিজ গ্রামে শোকের মাতম চলছে মুক্তা আক্তার (নাম) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায়। ঢাকার খিলগাঁওয়ে ভাড়া বাসায় স্বামীর নির্যাতনে তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর অভিযুক্ত স্বামী সোহেল শিকদারকে আটক করেছে পুলিশ।
গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার খিলগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
নিহত মুক্তা আক্তার বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সরসী গ্রামের মৃত নিজাম হাওলাদারের মেজো মেয়ে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পরকীয়ার সন্দেহসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে বিয়ের পর থেকেই সোহেল শিকদার তার স্ত্রী মুক্তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন।
স্বজনদের দাবি, ঘটনার রাতে মুক্তাকে বেদম মারধর করা হয়। নির্যাতনের সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তারা জানান।
একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় মুক্তার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা।
ঘটনার পর নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ঢাকার খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী সোহেল শিকদারকে আটক করে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাবার বাড়ি পশ্চিম সরসী গ্রামে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার সরসী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) আব্দুস সালাম বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। নিহতের স্বামীকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।
বিস্তারিত জানার জন্য এবং সার্বিক তদন্তের স্বার্থে ওই বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
দুধল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম বলেন, “মেয়েটি আমার চোখের সামনে বড় হয়েছে। সে অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও পর্দানশীন ছিল। এ ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।
সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
এদিকে মুক্তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।