
আফাজ উদ্দিন
জেলা প্রতিনিধি
সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে এক সন্তানের জননীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার পর গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ
অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও ওই নারীর পরিবার জানায়, ২২ জুন রাত ১০ টার পর ওই নারী কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে শাহজাহান ও ফরিদসহ ধৃতরা রসুলপুর গ্রাম থেকে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী হাজী সুনামিয়া জুনের নির্জন একটি জায়গায় পাঁচজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। বাড়ি ফিরে ওই নারী তার মায়ের কাছে ঘটনা খুলে বললে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সোমবার রাতে থানায় উপস্থিত হয়ে ওই নারী বাদী হয়ে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গোয়াইনঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। মামলা নং-২১, তারিখ-২৫/৬/২০২৪ খ্রিঃ।
এজহার দাখিলের পরই গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ওই নারীকে সিলেটের এম এ জি উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসক ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার দিবাগত রাতে ও মঙ্গলবার সকালে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ওই মামলার এজহার ভুক্ত তিন জনকে আটক করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার গাজিপুর গ্রামের মৃত মন্তাজ আলীর ছেলে আকরাম হোসেন, সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার রুইগড় গ্রামের মৃত আলা উদ্দিনের ছেলে জামাল হোসেন ও টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার চাকন্দ্র বীরের বাড়ী গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মাসুদ রানা। তিনজনই দীর্ঘদিন থেকে জাফলংয়ের বিভিন্ন ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করে আসছে।
এ বিষয়ে ওই নারীর মা বলেন, ওরা আমার মেয়েকে অমানবিক নির্যাতন করেছে। আমি ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদি হাসান বলেন, ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।