
স্টাফ রিপোর্টার মোঃ রাজু শেখ
চট্টগ্রামে মধু হই হই গান গেয়ে পাইপ সঙ্গে বেঁধে রাখা এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলো- ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী জুয়েল ৪৩ আনিসুর রহমান ১৬ ও ইফাত ১৮ বয়সী কিশোর।
মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সিএমপি অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কাজী মো. তারেক আজিজ।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সিএমপি কমিশনার কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন= চট্টগ্রাম ছাত্র জনতা ট্রাফিক গ্রুপ’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে মারধরকারীদের শনাক্ত করে তাদের ধরা হয়েছে গত ১৪ আগস্ট নগরীর বদনা শাহ মাজারের সামনে থেকে এক যুবকের লাশ পাওয়া যায়। লাশের মাথা, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্ত করে যুবকের নাম শাহাদাত বলে নিশ্চিত করে এর এক মাস ৬ দিন পর ২১ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক যুবককে বেঁধে পেটানোর ২০ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল হলে তার পরিচয় মেলে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি থানায় হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর গত ১৩ আগস্টের রাতে শাহাদাতকে যখন মারধর করা হয়, সেসময় থানায় পুলিশ থাকলেও তাদের তেমন সক্রিয়তা ছিল না।
মারধরে মৃত্যুবরণকারী যুবকের নাম মো. শাহাদাত হোসেন শাহাদাত নগরীর বিআরটিসি এলাকার বয়লার কলোনিতে থাকতেন এবং ফলমণ্ডিতে একটি দোকানে চাকরি করতেন। ১৪ আগস্ট রাতে প্রবর্তক এলাকা থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শাহাদাতের চাচা মোহাম্মদ হারুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ আগস্ট দুপুর দুইটার দিকে কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন শাহাদাত। সারাদিন পর তার স্ত্রী শারমিন সন্ধ্যার দিকে ফোন করলে তিনি জানান, কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসায় যাবেন। রাত বেশি হওয়ার পরেও শাহাদাত বাসায় না ফেরায় তাকে ফোন করেন শারমিন। কিন্তু তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এর পরদিন শাহাদাতের চাচা সকাল ৯টার দিকে ফেসবুকে দেখেন, নগরের প্রবর্তক মোড়ের অদূরে বদনাশাহ মাজারের বিপরীতে সড়কের পাশে তার ভাতিজার মরদেহ পড়ে আছে।