
তমিজ উদ্দিন চৌধুরী,ফেনী প্রতিনিধি।
ইসকন” হল ইংরেজী শব্দ। ইংরেজীতে “ISKCON” এর পূর্ণরূপ I=INTERNATIONAL, S=SOCIETY for, K=KRISHNA, CON = CONSCIOUSNESS.
INTERNATIONAL SOCIETY FOR KRISHNA CONSCIOUSNESS” এর বাংলা অর্থ হল “আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ” এবং এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল “ইসকন”।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসকন মন্দির কোনটি ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির বাংলাদেশের চট্টগ্রামে অবস্থিত একটি হিন্দু মন্দির। মন্দিরটি আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি বাংলাদেশে তৈরি সবচেয়ে ব্যয়বহুল মন্দির। কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী, রাধা জন্মাষ্টমী, রথযাত্রা, দোলপূর্ণিমা। ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ১৯৬৬ সালের ১৩ই জুলাই এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। ইসকন মূলত বৈষ্ণব ধর্মের একটি অংশ এবং ভগবান কৃষ্ণকে কেন্দ্র করে তাদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকে ইসকনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ইসকন রাশিয়া এবং অন্যান্য প্রাক্তন সোভিয়েত রাজ্যে কাজ করতে সক্ষম হয়। চীনে ইসকনের কার্যক্রমের অনুমতি নেই। ইসকনসহ বিদেশি ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলিকে প্রকাশ্যে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয় না দেশটিতে।
মালয়েশিয়ায়ও নিষিদ্ধ ইসকন। দেশটিতে ইসকনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ধর্মান্তর করণের অভিযোগ আছে। শিয়াশাসিত ইরানে ইসকনের ক্রিয়া কলাপের অনুমতি নেই। এ ছাড়া সৌদি আরব ও আফগানিস্তানে ইসকনের কর্মকাণ্ডের অনুমতি নেই। কিছু দেশে আংশিক নিষিদ্ধ। ইন্দোনেশিয়ায় আংশিক নিষিদ্ধ ইসকন। কিছু শর্ত মেনে দেশটিতে কার্যক্রম চালাতে পারে সংগঠনটি।
এ ছাড়াও তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানে ইসকনের কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি জারি রয়েছে।
যেসব দেশে সক্রিয় ইসকন তা হলো ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রাজিল, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, তাঞ্জানিয়া,উগান্ডা, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই ও ইসরাইলে ব্যাপক সক্রিয় ইসকন।
এ ছাড়াও মেক্সিকো, কানাডা, জাপান, থাইল্যান্ড, মরিশাস, ফিজি, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়ায় ইসকনের কর্মসূচি রয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাপকভাবে সক্রিয় ইসকন। দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি মন্দির পরিচালনা করে তারা। সত্তরের দশকের শুরুতে এ দেশে সংঘটির কার্যক্রম শুরু হয়। রাজধানী ঢাকার স্বামীবাগ মন্দির, যা বর্তমানে ইসকনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এটি সংগঠনটির প্রথম কেন্দ্র গুলোর মধ্যে অন্যতম। ইসকনের বাংলাদেশ শাখা তাদের বিভিন্ন ধর্মীয় এবং সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যেমন ধর্মপ্রচার, মন্দির পরিচালনা এবং বার্ষিক রথযাত্রা উৎসবের আয়োজন। স্বামীবাগ মন্দিরে ভক্তরা নিয়মিত কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করেন এবং ভগবানের সেবা করে থাকেন। তবে অতি সম্প্রতি বাংলাদেশে তাদের রাষ্ট্র বিরোধী কার্যক্রম অত্যান্ত প্রশ্নবিব্ধ। তাই দাবী উঠেছে এখনই তাদের নিষিদ্ধ করার।