1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
যে মাঠে শেষ বল করেছিলেন, সেই মাঠেই শেষ বিদায়—বিরামপুরের ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
“চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত।” ​ গাজীপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনায় উজ্জীবিত করে। আল-আমিন হালদার যে মাঠে শেষ বল করেছিলেন, সেই মাঠেই শেষ বিদায়—বিরামপুরের ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া চারঘাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আগামীকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে ১-১তম শিক্ষক নিবন্ধিত নিয়োগ প্রত্যাশীদের সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধন শাহজাদপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ডিসপ্লে ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উদ্বোধন। শাহজাদপুরে “বাড়াবিল উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে” জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। পাঁচবিবি উপজেলায় মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আল আমিন বিশ্বাস, বাড়ল গ্রাম পুলিশের বেতন, মাসে মিলবে ১৫০ টাকা মোবাইল বিল জাতীয় দিবসের কর্মসূচি রেখে বান্দরবান ভ্রমণে শিক্ষা কর্মকর্তা, সঙ্গে ৩৫ শিক্ষক উল্লাপাড়ায় সমালোচনা ও ক্ষোভ, সরকারি অনুমোদন ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তদন্তের দাবি

যে মাঠে শেষ বল করেছিলেন, সেই মাঠেই শেষ বিদায়—বিরামপুরের ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের বিরামপুরের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বিরামপুর সরকারি কলেজের সাবেক ক্রীড়া শিক্ষক আলতাফ হোসেনের তৃতীয় সন্তান, ভিক্টর স্পোর্টিং ক্লাবের সহসভাপতি ও পরিচিত ক্রিকেট খেলোয়াড় মঞ্জুরুল ইসলাম রতন আর নেই। শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোরে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর হঠাৎ মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহখেলোয়াড় ও ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত ৬ নভেম্বর বিরামপুরের ঐতিহ্যবাহী আনসার মাঠে ভিক্টর স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে চলছিল ‘বিরামপুর লিজেন্ড কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সিজন-৬’। প্রতিদিনের মতো সেদিনও ক্রিকেটের আনন্দে মাঠে নেমেছিলেন রতন। খেলার একপর্যায়ে ওভারের পাঁচটি বল করার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মুহূর্তেই থমকে যায় খেলা। মাঠে উপস্থিত খেলোয়াড়, সহকর্মী ও অন্যরা দ্রুত তাঁর কাছে ছুটে যান।

তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। পরবর্তীতে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। কিন্তু চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে শনিবার ভোরে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই ক্রীড়াপ্রেমী মানুষটি।

পরিবারের কাছে রতন সেদিনও ছিলেন একজন স্বাভাবিক মানুষ। একমাত্র ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা জানতেন, তিনি খেলতে মাঠে গেছেন। খেলা শেষে আগের মতোই বাড়ি ফিরবেন। হয়তো বাড়ি ফিরে খেলার গল্প করবেন, হাসিমুখে সবার সঙ্গে সময় কাটাবেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান আর হলো না। মাঠে যাওয়া মানুষটি ফিরলেন ঠিকই, তবে জীবিত নয়—নীরব নিথর দেহে।

একটি মাত্র সন্তানকে রেখে তাঁর এই হঠাৎ চলে যাওয়া পরিবারটির জন্য কতটা বেদনাদায়ক, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। স্বজনদের আহাজারি আর সহখেলোয়াড়দের চোখের জল যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল, মানুষটি আর কখনো ব্যাট-বল হাতে মাঠে নামবেন না।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য ছিল তাঁর জানাজা ও শেষ বিদায়ের মুহূর্ত। যে বিরামপুর আনসার মাঠে ক্রিকেট খেলতে নেমে জীবনের শেষ সময়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন রতন, সেই মাঠেই জানাজার নামাজের মাধ্যমে তাঁকে শেষ বিদায় জানান স্বজন, বন্ধু, সহখেলোয়াড় ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী।

যে মাঠে একদিন তাঁর ব্যাট-বলের শব্দে মুখরিত হতো চারপাশ, যে মাঠে সতীর্থদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে কাটত সময়, সেই মাঠই এবার হয়ে উঠল তাঁর বিদায়ের সাক্ষী। মাঠে উপস্থিত মানুষের কাছে এটি ছিল এক অসহনীয় আবেগঘন মুহূর্ত।

মঞ্জুরুল ইসলাম রতন শুধু একজন ক্রিকেট খেলোয়াড়ই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভিক্টর স্পোর্টিং ক্লাবের সহসভাপতি এবং বিরামপুরের ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ। তাঁর এমন হঠাৎ প্রস্থান স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি করেছে এক অপূরণীয় শূন্যতা।

খেলার মাঠে বল হাতে ছুটে চলা মানুষটি আর ফিরলেন না ঘরে। একটি ম্যাচ শেষ করে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু নিয়তি তাঁকে ফিরতে দিল না। যে মাঠে ক্রিকেট খেলতে নেমে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, সেই ঐতিহ্যবাহী আনসার মাঠেই শেষবারের মতো জানাজা শেষে তাঁকে বিদায় জানানো হলো।

জীবনের শেষ ওভারটি হয়তো তিনি শেষ করতে পারেননি, কিন্তু সহখেলোয়াড়দের স্মৃতিতে তাঁর উপস্থিতি থেকে যাবে আজীবন। যে মাঠে শেষবার বল হাতে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই মাঠই তাঁকে শেষবারের মতো বুকে টেনে বিদায় জানাল।

কিছু বিদায় মেনে নেওয়া যায় না, কিছু শূন্যতা কখনো পূরণ হয় না। রতন চলে গেলেন, কিন্তু বিরামপুরের ক্রিকেটাঙ্গনে তাঁর স্মৃতি থেকে যাবে বহুদিন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park