
স্টাফ রিপোর্টার মোঃ রাজু শেখ:
চট্টগ্রাম নগরের ওমরগণি এমইএস কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও জোর করে রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষ হয়। এতে এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন ৮ থেকে ১০ জন।
সোমবার দুপুরে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের ব্যানার টানিয়ে অনুষ্ঠান করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম মামুন। তিনি কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন মামুন।
আহত ওই শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কলেজের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ। তবুও ছাত্রদল জোর করে রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এতে বাধা দিলে তারা গুলি করে। তবে ছাত্রদলের কেউ সংঘর্ষে জড়িত নয় বলে দাবি করেছে সংগঠনটির নেতারা।
ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. তারেক আজিজ বলেন, আজকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে প্রতিনিধি দল আসে। আমারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ শেষে আমাদের প্রোগ্রাম শেষ করে যাওয়ার সময় কিছু নামধারী ছাত্র হট্টগোল শুরু করে। সেখানে পুলিশ প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত ছিলো। আমাদের কলেজের গত ৪৫ বছর ছাত্রলীগ ছাড়া কেউ ছিল না। ছাত্রলীগের এর এরশাদুল আলম বাচ্চু ও ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে রাজনীতি করতো কলেজে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাচ্ছে। যারা এসব করেছে তারা ছাত্রলীগের রাজনীতি করে এখন সাধারণ শিক্ষার্থী সেজে কলেজ অস্থিতিশীল করে তুলতে চাচ্ছে। আমরা সেটি হতে দেব না।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেছেন ওমরগণি এমইএস কলেজে ছাত্ররাজনীতি পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এরপরও কোনো ধরনের অনুমতি ব্যতীত ছাত্রদলের ব্যানারে অনুষ্ঠান শুরু করে ছাত্রদল নেতারা। সেখানে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধরও করে বলে অভিযোগ করেন তারা।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি টিম ও স্থানীয় ছাত্রদল নেতাসহ কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজন গিয়ে তাদের ‘কলেজ ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ’ বলে বাধা দেয় । এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে ৷ এতে উভয় পক্ষের দুইজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।