
সুমন চন্দ্র দে, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে মহেশখালীর গোরকঘাটা জেটিঘাট ও কক্সবাজার ৬নং ঘাট। যেটা এতো দিন যাবত পরিচালনা করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। যেখানে আপামর জনসাধারণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত হারে যাতায়াতের ভাড়া নিয়ে আসছিলো কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত স্পীড বোট ও গামবোট মালিক পক্ষ। গত ২০ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তোপে যাতায়াতের ভাড়া কমানো হয়। এই নিয়েই শুরু হলো দুই জেটিঘাটে সিন্ডিকেট ও ভোগান্তি। এখন নেই কোনো প্রশাসনের পক্ষ! কষ্টকর পরিস্থিতিতে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয় নারী-পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ ও মহেশখালীতে আসা পর্যটক।
অদ্য ২১ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, শত শত মানুষ মহেশখালী জেটিঘাটে অপেক্ষমান, মহেশখালী হতে কক্সবাজার নৌ পথে পার হবে। এরই মধ্যেই নদীতে ভাটা ও নৌযান ড্রাইভারদের সিন্ডিকেট, ভাড়ার দর কষাকষি। তার মধ্যেই খালে পলি মাটি থেকে জেগে উঠা চরে আটকে থাকতে দেখা যায় নৌযান সমূহ। নেই কোন খননের উদ্যোগ।

এদিকে সন্ধ্যার আগেই মহেশখালী থেকে কক্সবাজার পার হওয়ার জন্য জেটিঘাটে অপেক্ষমান শতশত যাত্রী। মাথা ব্যথা নেই উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের। মহেশখালী জেটি ঘাটে প্রশাসনের লোক না থাকায় চলছে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট বোট ড্রাইভারদের। মহেশখালী সাধারণ মানুষ এই জেটিঘাটের এবং এই জেটিঘাটের পরিচালিত মানুষদের কাছে অসহনীয় অসহায়। শুধু এই মহেশখালীর জেটিঘাট নয়, কক্সবাজার ৬নং জেটিঘাট ঘাটেও কত যে ভোগান্তি ও লাঞ্ছিত হতে হয় তার ভাষা নেই মহেশখালী জনসাধারণের।
ভোর হলেই শতশত স্পীট ভোট ও গামবোট (নৌকা) লাইন ধরে দুইঘাটে পড়ে থাকে। সাধারণ জনগণ কোন জরুরী কাজ থাকলেও বা কোন রোগী থাকলেও নৌযান ড্রাইভার ও ঘাট পরিচালক না থাকায় স্তব্ধ ও নিরাস হয়ে দাড়িয়ে থাকতে হয় জেটিঘাটে।
মহেশখালীর সাধারণ জনগণ প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করলেও প্রশাসনের কোন সহযোগিতা নেই। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক, যাদের ভ্যাট-ট্যাক্সের টাকাই এই প্রশাসন পরিচালিত হয়, সেই প্রশাসনের কাছেই কোন সহযোগিতা পায় না।
মহেশখালীতে আসা এক পর্যটক বলেন, আমরা মহেশখালী দ্বীপ দেখতে এসে অসহায় হয়ে পড়েছি যেতে না পেরে। এই মহেশখালী জনগণের কি যে অবস্থা তা অকল্পনীয়। সরকার বা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
মহেশখালীর সাধারণ জনগণ পক্ষে মোঃ আবুল কালাম বলেন, এই জেটিঘাটের ভোগান্তির কখন যে পরিত্রাণ পাবে, সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রতিনিয়ত প্রার্থনাই করি। আমাদের তো জীবন কাল শেষের দিকে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যে কি অবস্থা থাকবে সৃষ্টিকর্তায় জানে।
ভূক্তভোগীরা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।