1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
স্কুলের সামনে আইসক্রিম বিক্রি, তবুও বইয়ের টান—শিক্ষায় ফিরতে চায় এতিম মেহেদী - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বেলকুচিতে প্রশাসনের অভিযানের পরও থামছে না ডাইং কারখানার দূষণ নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতা আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে আট দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন পাঁচবিবিতে ভারতীয় সিরাপ ও ইয়াবাসহ আটক ৩ পাঁচবিবিতে উচ্চতা ৪ ফুট তবু থেমে নেই জীবনযুদ্ধ ১৬ বছর ধরে পরিশ্রমে সংসার চালান আল-আমিন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কলকলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মুহিত মিয়ার নির্বাচনী মতবিনিময় সভা  সাতক্ষীরায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত বাগমারায় সাংবাদিকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র ​সাতক্ষীরা সীমান্তে অভিনব কায়দা: মলদ্বারে লুকিয়ে পাচারের সময় ১.৫৫ কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক পাবিপ্রবিতে ডিবেটিং সোসাইটির কমিটি নিয়ে বিতর্ক, আলোচনায় শিবির সভাপতি

স্কুলের সামনে আইসক্রিম বিক্রি, তবুও বইয়ের টান—শিক্ষায় ফিরতে চায় এতিম মেহেদী

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ৮১ বার পঠিত

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দারিদ্র্যের কষাঘাতে থেমে গেছে পড়ালেখা, তবুও স্বপ্ন দেখে আবার স্কুলে ফেরার ।দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরশহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কল্যাণপুর গ্রামের ১৪ বছর বয়সী কিশোর মেহেদী হাসান। যে বয়সে বই-খাতা আর খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই তাকে জীবিকার তাগিদে ছুটতে হচ্ছে আইসক্রিমের ভ্যান নিয়ে।

জন্মের পরই বাবা লোকমান হোসেন কে হারায় মেহেদী। মা অন্যত্র সংসার গড়লে নানীর কাছেই বেড়ে ওঠা তার। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও বিরামপুর পৌরসভা দাখিল মাদ্রাসা থেকে প্রাথমিক (ইবতেদায়ী) শিক্ষা শেষ করলেও ষষ্ঠ শ্রেণীতে ওঠার পর আর এগিয়ে যেতে পারেনি সে। তবুও তার চোখে এখনো জ্বলজ্বল করে পড়ালেখায় ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন।

৩১ মার্চ বিরামপুর পৌরশহরের দোয়েল স্টুডিও মোড় সংলগ্ন এলাকায় প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় মেহেদীর। ক্লান্ত শরীর, তবুও মুখে একরাশ আশা। জানায়, ভোরবেলা আইসক্রিমের ভ্যান নিয়ে বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে সে। সারাদিন শেষে রাতের দিকে বাড়ি ফেরা।

এই পেশায় আসার আগে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেছে সে। কিন্তু শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বেছে নিয়েছে আইসক্রিম বিক্রির পথ।

মেহেদী জানায়, প্রতিদিন সকালে নানীর সঙ্গে বাড়ির কাজ সেরে শালবাগান রোডের একটি কারখানা থেকে আইসক্রিম নিয়ে বের হয়। এরপর পায়ে প্যাডেল চালিয়ে বিভিন্ন গ্রাম ও স্কুলের সামনে বিক্রি করে।

স্কুলের সামনে গিয়ে যখন তার সমবয়সী শিশুদের ক্লাসে যেতে দেখে, তখন তার মনটা কেঁদে ওঠে। “সুযোগ পেলে আবার পড়ালেখা করতাম”—লাজুক হাসিতে জানায় সে।

দিন শেষে যা আয় হয়, সবই তুলে দেয় নানীর হাতে। সেই সামান্য আয়েই চলে তাদের সংসার।

নানী জাহানারা খাতুন, জানান অনেক কষ্ট করে মেহেদীকে পড়ানোর চেষ্টা করেছি।এখন আর্থিক সমস্যায় ছেলেটার পড়ালেখা করার ইচ্ছা আমি কুলে উঠতে পারছিনা।

মেহেদীর মতো আগ্রহী অথচ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে পারে সমাজের বিত্তবান মানুষ, শিক্ষা অনুরাগী কিংবা বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান। একটু সহায়তাই ফিরিয়ে দিতে পারে তার স্বপ্নের আলো।

একটি বই, একটি সুযোগ—হয়তো বদলে দিতে পারে মেহেদীর জীবন। এখন শুধু অপেক্ষা, কেউ এগিয়ে আসবে—আবার স্কুলের পথে হাঁটবে এই ছোট্ট কিশোর।

এবিষয়ে মেহেদীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিরামপুর পৌরসভা দাখিল মাদ্রাসার সুপার গোলাম মাওলার সাথে কথা বললে তিনি বলেন,সে যদি পড়ালেখা করতে চাই আমার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সবরকমের সহযোগিতা করা হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park