
মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, জ্ঞানচর্চা ও প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্যে দিনাজপুর জেলা দক্ষিণে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জেলার দক্ষিণ অঞ্চলের ছয়টি উপজেলায় (পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট) এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ৪ হাজার ৭২০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
এরই অংশ হিসেবে বিরামপুর উপজেলায় বিরামপুর আদর্শ হাইস্কুলে ২৫টি কক্ষে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলায় এবার মোট ৮৩৭ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ৭৪৩ জন। ৬৫ জন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
পরীক্ষায় চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষাকেন্দ্রের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের বিরামপুরের দায়িত্বশীল মোঃ জাহিরুল ইসলাম।হল সচিবের দায়িত্ব পালন করেন কিশোর কন্ঠ ফাউন্ডেশন এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোঃ এনামুল হক। এ সময় ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্র পরিদর্শক শাহিনুর রহমান (ইঞ্জিনিয়ার)সহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কিশোরকণ্ঠ শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে শুরু হওয়া এ ধরনের মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম বর্তমানে উপজেলা পর্যায়েও বিস্তৃত হয়েছে। বিরামপুরে ২০২৫ সাল থেকে এ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সে হিসাবে এবার দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলায় এ আয়োজন করা হয়েছে।
মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এককালীন শিক্ষা বৃত্তি, নগদ অর্থ, সনদপত্র ও আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হবে।
এদিকে, সন্তানদের মেধা যাচাই ও বিকাশের সুযোগ তৈরি হওয়ায় আয়োজকদের প্রতি সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাঁদের মতে, পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, আত্মবিশ্বাস ও প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।
দিনাজপুর জেলা দক্ষিণ কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।