
শাহিন আলম টেকনাফ
আজ শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টেকনাফ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অডিটোরিয়াম রুমে স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-২০২৫ প্রদর্শনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এই অনুষ্ঠানে ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল ও আইটি তথা তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের ৩টি বিভাগের ১৫ টি স্টলে প্রদর্শন করেন।
প্রথম স্থান লাভ করেন, ট্রান্সমিশন লাইন ফল্ট সেফটি প্রজেক্ট, ২য় স্থান অর্জন করেন স্মার্ট ট্র্যাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম ও ৩য় স্থান অর্জন করেন রেইন ডিটেকশন সিস্টেম।
১স্থান অর্জন কারা শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। যার কারণে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। তাই কেউ যদি আমাদের উদ্ভাবিত ” ট্রান্সমিশন লাইন ফল্ট সেফটি প্রজেক্ট ” ব্যবহার করেন তাহলে দুর্ঘটনার আগে বিদ্যুৎ স্বয়ংক্রিয় ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। যার কারণে মানুষ দুর্ঘটনা থেকে বাঁচবে।
২য় স্থান অর্জন কারি বলেন, স্মার্ট ট্র্যাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম আমাদের দেশে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি শাহর বা মহাসড়কে স্মার্ট ট্র্যাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম না থাকায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে এবং অনেকেই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে ট্র্যাফিক আইনে শৃঙ্খলার পাশাপাশি কমবে যানজট। কমবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
৩য় স্থান অধিকারী বলেন, রেইন ডিটেকশন সিস্টেম বস্তুটি জানাবে আগাম সতর্ক বার্তা। কোন কলকারখানা অথবা রাইস মিলে ধান শুকানো অথবা বাড়ি ঘরে কোন খোলা জায়গায় যদি শুঁটকি মাছ অথবা যে কোন কিছুর দ্রব্য রৌদ্রের শুকাতে দেওয়া হয়েছে এমন সময় বৃষ্টি আসার সম্ভাবনা থাকলে তা আগে থেকেই মালিক কে জানিয়ে দেবে। এ বস্তুটির ব্যবহার করলে যে কোনো মালিক আগাম বার্তা পেয়ে যাবে যার কারণে তার কোন কিছু ক্ষতি হবে না।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা.মেহবুবা শাইদ, উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি), সম্পদ প্রকল্প, ডিটিই। টেকনাফ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীদের উপসহকারী মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুর হোসেন, সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান, সাবরাং গ্র্যান্ড মাস্টার মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সুলতান আহমদ বিএ সহ অনেকেই।
সভাপতিত্বে ছিলেন টেকনাফ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, টেকনাফের মতো জায়গায় এ রকম একটি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ সত্যি দেশের টেকনিক্যাল খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের ছেলেরা আগে শুধু সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত ছিল। আমাদের অধিকাংশরা অর্ধ শিক্ষায় ঝাড়ে পড়ে যেত। আজ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের কারণে টেকনাফের ছেলে সন্তানরা প্রকৌশলগত বিদ্যা অর্জন করে নিজেদের বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি দেশ ও জাতির মুখ উজ্জ্বল করে প্রকৌশল গত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করছেন।
সুলতান আহমদ বিএ বলেন, স্বাধীনতা ৫৪ বছরে টেকনাফের ছেলেরা টেকনিক্যাল শিক্ষা থেকে বাদ ছিল। যারা কিছু পড়েছে তাও ঢাকা, চট্টগ্রামে গিয়ে। বর্তমানে এখন আমাদের অভিভাবকদের আর দূরে যেতে হবে না আমরা আমাদের টেকনাফেই সেই প্রযুক্তিগত শিক্ষা লাভ করতে সক্ষম হচ্ছে। তাই সকল কে প্রযুক্তিগত শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হতে স্কুলে আহবান জানাচ্ছি।