
তাসলিমা রত্না, ময়মনসিংহ
নেত্রকোনা জেলার বির্স্তীর্ণ অঞ্চল মদন উপজেলার ৭ নং নায়েকপুর ইউনিয়ন মাহড়া গ্রামে হাজী হোসেন আলী ফকিরের ২য় সন্তান মাজহারুল ইসলাম সাজু (৩৫) পাওনা টাকা চাওয়ায় নৃশংসভাবে হামলার শিকার হয়ে মর্মান্তিকভাবে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
সরেজমিনে তথ্যসূত্রে এলাকাবাসী ও পুলিশ জানাই , পাওনা ৫ (পাঁচ লক্ষ) টাকা চাওয়াতে একই এলাকার বাসিন্দা আসামী সেকুল মিয়ার সাথে দ্বন্ধ চলে আসছিল বেশ কিছুদিন ধরে। সেই আক্রোশে গত (২৯ শে মার্চ ২৫) রাতে বাড়ীর সামনে রাস্তায় ফেলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাজহারুল কে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় আক্রমনকারীরা।
সেই রাতেই আহত মাজহারুলকে তার ভাই আজিজুল ইসলাম প্রথমে মদন স্বাস্থ্য কম্পপ্লেক্স পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরিস্থিতি অবনতি হলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন । মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে (৪ এপ্রিল ২৫) ইং তারিখ না ফেরার দেশে চলে যান মাজহারুল।
গত (৮ এপ্রিল ২০২৫) ইং মঙ্গলবার খুন হওয়া মাজহারুল এর ছোট ভাই আজিজুল ফকির বাদী হয়ে মদন থানায় ১৪৩/৩৪২/৩০২ ধারায় পেনাল কোড ১৮৬০ ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাতে মৃত্যু এই মর্মে ১০ জনের নাম এবং ৭/ ৮ জন অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় আসামী ১- সেকুল মিয়া (২৮), ২- আমিরুল ইসলাম (৩৫), ৩- রতন ফকির(৪৫), ৪- তৈহিদ (৪৮), ৫- কাকন মিয়া (২৮), ৬- কাইকুল (৩৫), ৭- সাকিল (২৩), ৮- সাব্বির হোসেন (২৫), ৯- ইমরান পাঠান (২৪), ১০-মলয় ফকিরসহ ৭/৮ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটি এসআই ফয়সাল তদন্ত করছেন বলে এজাহারে উল্লেখ আছে। এরই মধ্যে ৬ নং আসামী কাইকুল কে মদন থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে ওসি মুহাম্মদ নাহীদ হাসান সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, সেনা সদস্য মলয় ফকির বর্তমানে রামু সেনা নিবাসে কর্মরত তিনি ঘটনার সময় ছুটিতে এসেছিলেন। বাদী জানান তিনি নিজে প্রত্যক্ষ্য করেছেন মলয় ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন, ঘটনার পর পরই মলয় পালিয়ে যান।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আসামীগন বাদীর আত্বীয় পরিজন। আসামীগন টাকা লেনদেনের জের ধরে পূ্র্ব পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করেন পরিবারের দাবি।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাহীদ হাসান জানান, হত্যা মামলা রজু হওয়ার পর তদন্তর পাশাপাশি আসামী ধরাও চলছে, একটা হত্যা মামলা ২/৩ মাসে তদন্ত শেষ হয় না, এ ব্যাপারে সঠিক তদন্তের জন্য থানা পুলিশ সার্বক্ষনিক মাঠে কাজ করে যাচ্ছে, আসামী মলয় ফকিরের (সেনা সদস্য) ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, যেহেতু তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত, তদন্তে প্রমানিত হলেই তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া যাবে। বাদী আজিজুলের ক্ষোভ, তিনি বলেন আজ প্রায় ১৫ দিন হয়ে গেল – পুলিশ ইচ্ছাকৃত আসামী ধরছে না- তবে আসামীদের বাড়ী ঘড়ে মহিলা ও শিশু ছাড়া কেউ নাই – সবাই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে আছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১জন আসামীকে থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে মদন থানা সূত্রে জানা গেছে।