1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিস্কুট বিতরণে রহস্যজনক বিলম্ব, ৭৩ প্যাকেটের মধ্যে মিললো মাত্র ৪৫টি — তদন্তের দাবি - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বেলকুচিতে প্রশাসনের অভিযানের পরও থামছে না ডাইং কারখানার দূষণ নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতা আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে আট দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন পাঁচবিবিতে ভারতীয় সিরাপ ও ইয়াবাসহ আটক ৩ পাঁচবিবিতে উচ্চতা ৪ ফুট তবু থেমে নেই জীবনযুদ্ধ ১৬ বছর ধরে পরিশ্রমে সংসার চালান আল-আমিন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কলকলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মুহিত মিয়ার নির্বাচনী মতবিনিময় সভা  সাতক্ষীরায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত বাগমারায় সাংবাদিকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র ​সাতক্ষীরা সীমান্তে অভিনব কায়দা: মলদ্বারে লুকিয়ে পাচারের সময় ১.৫৫ কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক পাবিপ্রবিতে ডিবেটিং সোসাইটির কমিটি নিয়ে বিতর্ক, আলোচনায় শিবির সভাপতি

শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিস্কুট বিতরণে রহস্যজনক বিলম্ব, ৭৩ প্যাকেটের মধ্যে মিললো মাত্র ৪৫টি — তদন্তের দাবি

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৮৬ বার পঠিত

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও ঝরে পড়া রোধে চালু হওয়া ফিডিং কর্মসূচির ইতিবাচক উদ্যোগের মাঝেই জোতবানী ইউনিয়নের শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ বিস্কুট বিতরণে দীর্ঘ বিলম্ব ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কবুতর উড়িয়ে ও ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবার হিসেবে কলা, দুধ, ডিম ও রুটি সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়াও গত ৩০ মার্চ ও ২৮ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে আরডি ইউএইচটি দুধ ২০০ মিলি ও “FORTIFIED BISCUITS” ৭৫ গ্রাম বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২৮ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের জন্য নির্ধারিত “FORTIFIED BISCUITS” ৭৫ গ্রাম বিদ্যালয়ে নির্ধারিত দিনে পৌঁছেনি। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ে বিস্কুট পৌঁছালেও তা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর দীর্ঘ সময় বিস্কুটগুলো সংরক্ষণ করে রাখা হয়। এরই মধ্যে ৫ মে’র নতুন বরাদ্দ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হলেও আগের বিস্কুট আলাদাভাবে রেখে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের খাদ্যসামগ্রী আত্মসাতের চেষ্টা কিংবা অন্যত্র ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামসুল হুদার বিরুদ্ধে।

আজ সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৭৩টি বিস্কুট প্যাকেটের মধ্যে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৪৫টি প্যাকেট। অর্থাৎ দীর্ঘদিন বিতরণ না হওয়া ওই বরাদ্দের ২৮টি প্যাকেটের হিসাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সামসুল হুদা বলেন, “আমার বিদ্যালয়ে ৭৩টি বিস্কুট বরাদ্দ আসে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত উপস্থিত শিক্ষার্থীদেরও বিস্কুট দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য খাবারের জন্য ৮০ টা করে দেওয়া হয়।”

৭৩টি বরাদ্দের মধ্যে মাত্র ৪৫টি অবশিষ্ট থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে সেগুলো বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিস্কুটের কিছু অংশ আপ্যায়নে ব্যবহার করা হয়েছে কি না—এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, যদি অতিরিক্ত উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝেই বিস্কুট বিতরণ করা হয়ে থাকে, তাহলে তা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে করা উচিত ছিল। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে খাদ্যসামগ্রী মজুত রেখে পরে আংশিক বিতরণ করায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, বিস্কুট বিতরণে কোনো অনিয়ম বা আপ্যায়নের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সময়মতো খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত বরাদ্দের সঙ্গে বাস্তব উপস্থিতির পার্থক্য দেখা দেয়। এতে শিক্ষকরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে যান।

অনেকের দাবি, উপস্থিত শিক্ষার্থীর ভিত্তিতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করা হলে এ ধরনের জটিলতা কমে আসবে। পাশাপাশি সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর তদারকি এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, “বিস্কুট এভাবে বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করে রাখা ঠিক হয়নি। প্রধান শিক্ষককে দ্রুত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park