1. admin@bangladeshkhabarpratidin.com : admin :
যুগে যুগে জুলুম ও জালিমের পরিণতি ভয়াবহ গাজী আলাউদ্দিন আল হাবিব - বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতা আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে আট দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন পাঁচবিবিতে ভারতীয় সিরাপ ও ইয়াবাসহ আটক ৩ পাঁচবিবিতে উচ্চতা ৪ ফুট তবু থেমে নেই জীবনযুদ্ধ ১৬ বছর ধরে পরিশ্রমে সংসার চালান আল-আমিন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কলকলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মুহিত মিয়ার নির্বাচনী মতবিনিময় সভা  সাতক্ষীরায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত বাগমারায় সাংবাদিকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র ​সাতক্ষীরা সীমান্তে অভিনব কায়দা: মলদ্বারে লুকিয়ে পাচারের সময় ১.৫৫ কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক পাবিপ্রবিতে ডিবেটিং সোসাইটির কমিটি নিয়ে বিতর্ক, আলোচনায় শিবির সভাপতি ​সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ২০২৭ সালের ইংরেজি নববর্ষ প্রকাশনার উদ্বোধন।

যুগে যুগে জুলুম ও জালিমের পরিণতি ভয়াবহ গাজী আলাউদ্দিন আল হাবিব

আরিফুল ইসলাম পাঠান,কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৬১ বার পঠিত
Oplus_131072

 

আরিফুল ইসলাম পাঠান 
কুমিল্লা জেলা, প্রতিনিধি, 

জুলুম একটি মহা পাপ। একটি মারাত্মক কবিরা গুনাহ। যার গন্তব্য হল জাহান্নাম। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৃথিবীজুড়ে চলছে আজ জুলুমের ভয়ংকর প্রতিযোগিতা। চারদিকে প্রকাশ পাচ্ছে দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার।

জুলুমের পরিণতি খুবই মন্দ ও ভয়াবহ। অন্যের উপর অন্যায়-অবিচার করে নিজের পতন ও ধ্বংস ডেকে আনে জালিমরা। যেমনটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।

মানুষের বিভিন্ন বিপদ-আপদে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ জুলুম।

যার যা প্রাপ্য তাকে সেই প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার নাম জুলুম। কারো অধিকার হরণ, বিনা অপরাধে নির্যাতন, আর্থিক, দৈহিক ও মর্যাদার ক্ষতিসাধন, মানহানিকর অপবাদ দেওয়া, দুর্বলের উপর নৃশংসতা চালানো, নির্যাতন করা, অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ হরণ, অশ্লীল ভাষায় গালাগাল, উৎপীড়ন বা যন্ত্রণা ইত্যাদি কাজ জুলুমের অন্তর্ভুক্ত।

মানুষের সঙ্গে কারণে হোক আর অকারণে, কোনোভাবেই অন্যায় আচরণ আর জুলুম করা যাবে না। মানুষের প্রতি জুলুম সবচেয়ে মারাত্মক অপরাধ। এ কারণেই অত্যাচারিত ব্যক্তির আবেদন-নিবেদন আল্লাহ তাআলার দরবারে সরাসরি পৌঁছে যায়। আল্লাহ তাআলা মাজলুমের দুআ খুবই দ্রুততার সঙ্গে কবুল করে থাকেন। মানুষের উচিত দুনিয়ার কোন সৃষ্টির প্রতি জুলুম না করা।

দুনিয়াতে খুব কম জালিমই নিজেকে জালিম মনে করে। আবার জালিম যখন মাজলুম এবং দুর্বলের প্রতি অত্যাচার চালায়, তখন সে নিজেকে মনে করে অনেক ক্ষমতাবান। ভাবে তার অর্থবিত্ত, শক্তি ও ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী। মনে করে তার সহযোগী অনেক। কিন্তু সে ভুলে যায়, ওই অসহায় লোকটির পক্ষে কেউ না থাকলেও মহান আল্লাহ তাআলা তার সাথে আছেন। তিনি সবই দেখেন ও হিসাব রাখেন।

পৃথিবীতে জালিমের অন্যায়-অত্যাচার আর অবৈধ শক্তির ভয়ে মানুষ আতঙ্কিত ও ভীত থাকে। অনেক অসহায় প্রাণ দুই হাত তুলে জালিমের ধ্বংস প্রার্থনা করে। আর মজলুমের বদ দুআ আল্লাহ কখনো ফিরিয়ে দেন না। আজ যে জালিম নিজেকে শক্তিশালী অনুভব করে এবং শক্তির দাপটে দুর্বলের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না, কাল কেয়ামতের দিন সে নিজেকে মারাত্মক দুর্বল ও দরিদ্র অনুভব করবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, জালিমদের কোন বন্ধু নেই এবং সুপারিশকারীও নেই, যার সুপারিশ গ্রাহ্য হবে। (সুরা মুমিন , আয়াত : ১৮)

জুলুম এক অমার্জনীয় অপরাধ। এর শাস্তি অনিবার্য ও ভয়াবহ। জালিমদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা উদাসীন নন। বরং সার্বক্ষণিক তিনি সবকিছু দেখছেন। জালিম যত কৌশলিই হোক না কেন আল্লাহর চোখকে ফাঁকি দেওয়ার সযোগ নেই।

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, তুমি কখনো মনে করো না যে, জালিমরা যা করছে সে বিষয়ে মহান আল্লাহ উদাসীন। আসলে তিনি সেদিন পর্যন্ত তাদের অবকাশ দেন, যেদিন সব চক্ষু স্থির হয়ে যাবে। ভীত-বিহ্বল চিত্তে আকাশের দিকে চেয়ে তারা ছুটাছুটি করবে, আতঙ্কে তাদের নিজেদের দিকেও ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে (ভয়ানক) উদাস। সেদিন সম্পর্কে তুমি মানুষকে সতর্ক করো যেদিন তাদের শাস্তি আসবে, যেদিন জালিমরা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের কিছু কালের জন্য অবকাশ দাও, আমরা তোমার আহ্বানে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব। (তখন তাদের বলা হবে,) তোমরা কি পূর্বে শপথ করে বলতে না যে, তোমাদের কোন পতন নেই ? (সুরা ইবরাহিম , আয়াত : ৪২-৪৪)

পবিত্র কুরআনের অন্যত্র এরশাদ হয়েছে, আমি জালিমদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি অগ্নি। যার বেষ্টনী তাদের পরিবেষ্টন করে রাখবে। তারা পানীয় চাইলে তাদের দেওয়া হবে গলিত ধাতুর মতো পানীয়, যা তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে। এটি কত নিকৃষ্ট পানীয়। জাহান্নাম কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়। (সুরা কাহফ, আয়াত : ২৯)

এভাবে কুরআনের অনেক আয়াত রয়েছে, যাতে জালিমের কঠিন শাস্তির কথা আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ জালিমকে ছাড় দেন। কিন্তু ছেড়ে দেন না। জালিমকে তার জুলুমের শাস্তি অবশ্যই ভোগ করতে হবে। মাজলুমের কাছে মাফ চেয়ে মাফ করানো ছাড়া এ শাস্তি থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই। কারণ তা বান্দার হক এর অন্তর্ভুক্ত।

মাজলুমের অভিশাপে জালিমের পতন হয়ঃ

মাজলুমের অশ্রুফোঁটা ও অন্তরের অভিশাপ জালিমের পতনের অন্যতম কারণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, তিন ব্যক্তির দুআ আল্লাহর কাছ থেকে ফেরত আসে না। এক. ইফতারের সময় রোজাদারের দুআ। দুই. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দুআ। তিন. মাজলুমের দুআ। আল্লাহ তাআলা তাদের দুআ মেঘমালার উপরে তুলে নেন এবং তার জন্য আসমানের দরজাগুলো খুলে দেন। মহান রব বলেন, আমার সম্মানের শপথ, কিছুটা বিলম্ব হলেও আমি তোমাকে অবশ্যই সাহায্য করব। (জামে তিরমিযী, হাদিস : ৩৫৯৮)

অন্য হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, মাজলুমের বদ দুআকে ভয় করো। কেননা মাজলুমের বদ দুআ ও আল্লাহর মধ্যে কোন অন্তরাল নেই। (সহিহ বুখারী, হাদিস : ২২৮৬) অর্থাৎ মাজলুমের দুআ সরাসরি আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায়।

আল্লাহ কোন জালিমকে অতীতে ছেড়ে দেননিঃ

যারা জুলুম করে এমন কাউকে মহান আল্লাহ অতীতে ছেড়ে দেননি। তার শেকড় যতই শক্ত হোক। ফেরাউন ও নমরুদ তাদের শক্তির দাম্ভিকতায় নিজেদের রব বলে দাবি করেছে। স্বীয় ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য এবং তার পথের কাঁটা সরিয়ে দেওয়ার জন্য দেশের সব নবজাতক ছেলেসন্তানদের হত্যা করেছে। তারা নিজেদেরকে সর্ব ক্ষমতার অধিকারী ভেবেছিল। ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিল। জুলুম করেছিল। কিন্তু এতকিছুর পরও তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহ তাদেরকে দৃষ্টান্ত স্বরূপ পেশ করেছেন। যাতে পরবর্তীগণ তা থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ বাংলাদেশ খবর প্রতিদিন
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park