
তাসলিমা রত্না ময়মনসিংহ
বিদ্রোহী কবি ও বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী ননজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানমালা সার্থক করতে ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক বর্ণাঢ্য প্রাক-প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১১ মে সোমবার দুপুরে ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে
ত্রিশাল :
আগামী ১১ জ্যৈষ্ঠ কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠান এবার ত্রিশালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “নজরুলের সাম্য ও দ্রো*হে*র চেতনা বাঙালির চিরকালীন প্রেরণা। ত্রিশালের মাটিতে কবির স্মৃতিকে সমুন্নত রেখে একটি বিশ্বমানের অনুষ্ঠান আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর।”
বিশিষ্ট অতিথিবর্গের উপস্থিতি :
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও শিক্ষাবিদদের এক মিলনমেলা ঘটে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন:
ডাঃ মাহবুবুর রহমান লিটন, মাননীয় সংসদ সদস্য, ত্রিশাল।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রশাসক, জেলা পরিষদ।
ফারাহ শাম্মী, বিভাগীয় কমিশনার, ময়মনসিংহ।
প্রফেসর ডঃ জাহাঙ্গীর আলম, উপাচার্য, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।
আইরিন ফারজানা, যুগ্ন সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বক্তারা কবির স্মৃতিবিজড়িত দরিরামপুরসহ সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে অনুষ্ঠান চলাকালীন নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা এবং দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন।
প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লুৎফুর নাহার এবং ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এনামুল হক ভূইয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন:
আরাফাত সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ত্রিশাল।
মনসুর আহাম্মদ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ত্রিশাল থানা।
এবারের জন্মজয়ন্তীতে জাতীয় পর্যায়ের সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নজরুল মেলার আয়োজনকে ঘিরে ব্যাপক জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ত্রিশালের আকাশ-বাতাস এখন নজরুল বন্দনায় মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের এই সমন্বিত উদ্যোগ নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এক অনন্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।