
তাসলিমা রত্না ময়মনসিংহ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মজয়ন্তী জাতীয় পর্যায়ে ময়মনসিংহের ত্রিশালে উদযাপনের দাবিতে সোমবার উত্তাল হয়ে ওঠে কবির স্মৃতিবিজড়িত এ জনপদ।
‘আমরা ত্রিশালবাসী’র ব্যানারে শত শত নজরুলপ্রেমী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নজরুল অডিটোরিয়ামের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়।
সম্প্রতি, জাতীয় পর্যায়ে কবির জন্মজয়ন্তী কুমিল্লায় পালনের ঘোষণা আসতেই ত্রিশালের নজরুল অনুরাগীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মানববন্ধনে অংশ নেয়া ব্যক্তিবর্গ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কবির বাংলাদেশে পদার্পণের ক্ষেত্রে ত্রিশালের নাম ঐতিহাসিকভাবে অবিচ্ছেদ্য।
ত্রিশালের তৎকালীন দারোগা রফিজউল্লাহ আসানসোলের রুটির দোকান থেকে কবিকে নিয়ে এসে দরিরামপুর (বর্তমানে ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি) হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি করিয়েছিলেন। এখানেই কবির কবিপ্রতিভার স্ফূরণ ঘটে।
নামাপাড়া বিচুতিয়া ব্যাপারী বাড়িতে জায়গীর থাকাকালীন কবি প্রায় দুই বছর এখানে অধ্যয়ন করেন। কবির শৈশবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কেটেছে এ ত্রিশালে।
ত্রিশালের মানুষ কবির প্রতি যে ভালোবাসা ও সম্মান দেখিয়েছে তা চিরস্মরণীয়। এখানকার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে জাতীয় কবির নামে। কবির নামে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে ত্রিশালের মানুষের অসামান্য অবদান রয়েছে। অর্থ ও জমি দিয়ে অনেকেই সহযোগিতা করেছেন।
এমতাবস্থায়, ত্রিশালকে বাদ দিয়ে অন্য কোথাও জাতীয় পর্যায়ে কবির জন্মবার্ষিকী পালন করা বৈষম্যমূলক।
বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে জন্মজয়ন্তী উদযাপনের ঘোষণা না আসে, তবে এলাকার নজরুলপ্রেমী মানুষ আরও বৃহত্তর আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে। প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।
ঘোষিত কর্মসূচিতে শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক এবং ত্রিশালের সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি খোরশিদুল আলম মজিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত, ত্রিশাল উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল আউয়াল, জামায়াতের পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাস্টার, শুকতারা সংঘের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিহাব, তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন সরকার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সাংবাদিক এটিএম মনিরুজ্জামান, সাংবাদিক রুকুনুজ্জামান সরকার রাহাদ, যুবদলনেতা মাহফুজুর রহমান কবীর, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মারুফ হাসান, মেহেদী হাসান, হাসান সরকারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।