
তাসলিমা রত্না ময়মনসিংহ
জুলাই আগস্ট আন্দোলনে সারাদেশ যখন অশান্ত ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন ও থানা এলাকা তখন ছিল প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অনেকটাই শান্ত।
ময়মনসিংহ একদিকে বিভাগীয় শহর অপরদিকে শিক্ষানগরী। লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী পরিবার নিয়ে বসবাস করেন এ শহরে।এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কামিল মাদ্রাসা, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পলিটেকনিক সহ অসংখ্য সরকারি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রী ছুটিতে থেকে এ জুলাই আগষ্ট আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। যার ফলে আন্দোলন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চরম আকার ধারন করে।আন্দোলনকারীরা শহরের টাউন হল মোড়ে জড়ো হয়ে বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কে নিয়মিত বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশ ছিলো কৌশলি ভূমিকায়। থানা পুলিশকে কখনোই ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অবৈধ বল প্রয়োগ করতে দেখা যায়নি।
বিভাগীয় ও জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছিলেন তৎকালীন কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাইন উদ্দিন । নিজের মেধা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার অবদান ‘শান্তিপূর্ণ ময়মনসিংহ’ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। পুলিশই জনতা জনতাই পুলিশ ধ্যান জ্ঞান হৃদয়ে ধারণ করা এবং মাঠ পর্যায়ে যার বাস্তবায়ন তিনি সেই ওসি মাইন উদ্দিন ।
কর্মজীবনে যার সাফল্য গাঁথা পুলিশ ও নাগরিকের হৃদয়ে। সারাদেশে যখন থানায় থানায় আগুনের লেলিহান, জীবন বাঁচাতে অফিসার/ফোর্স থানা ছেড়ে পলায়ন, সেখানে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় কর্মরত সকল পুলিশ সদস্য সতর্ক অবস্থানে থানা ফটকে দাড়িয়ে, থানা প্রহরা ও নিজেদের জান মাল রক্ষার্থে অবস্থান করছিলেন।
সিটি কর্পোরেশন কোতোয়ালী থানা এলাকার মানুষের দৌড় গোড়ায় ওসি মাইন উদ্দিন টিম নিয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন শ্লোগান পুলিশ জনতা ভাই ভাই কথায় নয় কাজে দেখতে চাই। এ ওসি তার দায়িত্ব পালন কালে মানুষের সাথে যেমন নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেন ঠিক তেমনি আবার অপরাধীদের কাছে হয়েছিলেন মূর্তিমান এক আতংকের নাম। যার কারণে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষরা তাদের কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনে আনেন শান্তির ছোঁয়া সুবাতাস।
সারাদেশে অস্থির পরিস্থিতিতে ওসি মাইন উদ্দিনের বদৌলতে আস্থা রেখে শান্ত পরিবেশ যেমনি পেয়েছিলেন ঠিক তেমনি নাশকতার আশায় সহিংসরাও শান্ত থাকতে বাধ্য হয়েছিল। তাঁরাও জেনে গিয়েছিল নাগরিক ও পুলিশের সেতুবন্ধন রচনাকারী ওসির গুণাবলী। যে কারণে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থানীয় মানুষের মুখে প্রশংসিত হচ্ছে ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে।
সে সময়ের আন্দোলনকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ও সাধারণ একাধিক নাগরিক জানান, ময়মনসিংহে আমরা ওসি মাইন উদ্দিনের আচরন ও তার পজিটিভ কর্মকান্ডের জন্য যেমনি সহিংসতার পথে যায়নি তেমনি সচেতন থেকে পুলিশ জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রতিফলনের প্রতিরুপের চেহারাও পেয়েছি যা অনুসরণীয় ছিল।
এ বিষয়ে সাবেক ওসি মাইন উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি অনেক স্মৃতি মনে করে বলেন, কোতোয়ালি মডেল থানার সকল অফিসার ফোর্স ছিলো পুলিশের জন্য মডেল। আমরা সকল অফিসার ফোর্স ছিলাম একটা পরিবার। আমরা জনগনকে তাদের প্রত্যাশিত সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছি।কাউকে অহেতুক হয়রানি করা থেকে বিরত থাকতে সবসময়ই অফিসারদের নির্দেশনা দেয়া হতো। জুলাই আন্দোলন সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে মোকাবেলা করেছি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কোন ধরনের অবৈধ বলপ্রয়োগ করিনি। অনেক সময় আন্দোলনকারীরা টাউনহল মোড়ে বসে পড়তেন, এজন্য উর্ধতন অফিসারগণ তাদের সড়িয়ে দিতে বল প্রয়োগের আদেশ দিতেন।আমি মনে করতাম শান্তিপূর্ণভাবে বসে থাকলে সমস্যা কি? তারা তো রাস্ট্রের সম্পত্তি ধ্বংস করছে না, জানমালের ক্ষতি হচ্ছে না, ময়মনসিংহ শহরও অচল হচ্ছে না। তাহলে কেন ভালো জায়গা চুলকিয়ে ঘা বানাব। আমি ফিল্ড বাস্তবতা মেনে সবসময় সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করেছি। সবচেয়ে বড় কথা, পজিটিভ কাজ করে জনগনের সাথে আমাদের একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল এবং কাজের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করতে পেরেছিলাম বলেই কেউ পুলিশ কিংবা কোন পুলিশ স্থাপনায় আন্দোলনকারী কেউ ধ্বংসাত্বক কোন কর্মকান্ডের উদ্যোগ নেয়নি। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সকলেই শুনে আশ্চর্য হতেন যে, ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার সকল অফিসার ফোর্স থানায় হাজির ছিলো।