
টেকনাফ উপজেলা প্রতিনিধি :
র্যাব-১৫, কক্সবাজার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অপরাধ নির্মূলে প্রতিনিয়ত অবদান রেখে চলেছে। দায়িত্বাধীন এলাকা কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় হত্যা, ধর্ষণ, জঙ্গী, অপহরণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, জলদস্যু, ডাকাত, চুরি-ছিনতাই ও চাঁদাবাজসহ নানাবিধ অপরাধ দমন এবং মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশের যুব সমাজকে রক্ষায় র্যাব-১৫ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
গত ১৬ জুলাই ২০২৪ তারিখে কক্সবাজারের রামু থানাধীন চেইন্দা খোন্দারপাড়ায় মাদকাসক্ত ছোট ভাই আলী হোসেন এর হাতে তারই আপন বড় ভাই বাবুল হোসেন খুন হয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নিহতের ছোট ভাই নিয়মিত মাদক সেবনে অভ্যস্ত। ঘটনার দিন ঘাতক আলী হোসেন চেইন্দা স্টেশনে মাদক সেবনের পর মাতলামি করতে দেখে স্টেশনে উপস্থিত থাকা বাবুল হোসেন তাকে বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য বলে। এতে সে বড় ভাইয়ের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিরূপ আচরণ করে। পরে বড় ভাই বাবুল হোসেন একা বাড়ি ফেরারপথে অন্ধকারে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় আলী হোসেন। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। উক্ত ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। র্যাব উক্ত হত্যাকান্ডের পরবর্তী ছায়াতদন্ত সহ ঘাতককে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আভিযানিক কার্যক্রম শুরু করে।
উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনায় কক্সবাজারের রামু থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়, যার মামলা নং-৪৮/৩৮৯, তারিখ-১৮/০৭/২০২৪, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০। দায়েরকৃত মামলার ঘাতক আসামীকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-১৫, ব্যাটালিয়ন সদরের একটি চৌকস আভিযানিক দল গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখ আনুমানিক ১৪.৪৫ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ থানাধীন পর্যটন বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত হত্যা মামলার পলাতক ঘাতক প্রধান আসামী আলী হোসেন (২৩), পিতা-নূরুল হক, সাং-চেইন্দা, ০৮নং ওয়ার্ড, মিঠাছড়ি ইউনিয়ন, থানা-রামু, জেলা-কক্সবাজার’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক আলী হোসেন তার আপন বড় ভাই বাবুল হোসেন’কে নিজ হাতে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।