
টেকনাফ উপজেলা প্রতিনিধি
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন যে দ্বীপে লাখ লাখ পর্যটক ঘুরতে আসতেন প্রতি বছরে। তবে পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা বলে ভরা মৌসুমেও বন্ধ করে দেওয়া হয় পর্যটক আসা-যাওয়া। এমন পরিস্থিতিতে দ্বীপে বসবাসরত হাজারো মানুষের গুনতে হচ্ছে কষ্টে কেটে যাওয়া এক একটি দিন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় এই দ্বীপের মানুষের হাতে কোন কাজ নেই, নেই কোন ব্যস্ততা। কেউ বসে আছে সাগরের কিনারায়, কেউ জেটি ঘাটে বা কেউ দোকানে। কারো কোন তাড়া নেই, সবাই বসে বসে অলস সময় পার করছেন। মূলত একদিকে পর্যটন ব্যবসা বন্ধ, অন্যদিকে বন্ধ সাগরে মাছ ধরা। তাই এই দ্বীপের মানুষ চরম বেকার সময় পার করছে।
এই যেমন তারা পড়ন্ত বিকেলে উদাস মনে বসে আছেন সাগর কিনারায়। চোখেমুখে কি যেন দুশ্চিন্তা ঘিরে ধরেছে তাদের। হয়ত বাড়িতে চাল নেই নয়তো প্রিয়জনের চিকিৎসার ভার বহনের সক্ষমতা নেই এমনকি দ্বীপের একমাত্র সেবা কেন্দ্র হাসপাতালে চিকিৎসক নেই। সবাই কোন না কোন সংকটে জর্জরিত। ফলে দ্বীপে সবখানে দেখা মিলে বসে বসে অলস সময় পার করার এমন দৃশ্য।
এদিকে গেলো মৌসুমে পরিবেশ রক্ষার দোহায় দিয়ে সরকার দ্বীপে পর্যটক যেতে দিয়েছে মাত্র দুইমাস, তাও সীমিত আকারে। ফলে ১০ শতাংশ ব্যবসায়ীও ব্যবসা করতে পারেনি মৌসুমে। তাই মোট জনসংখ্যার পর্যটনে নির্ভর ৮০ শতাংশ মানুষ এখন চরম অর্থসংকটে পড়েছেন। অল্পকিছু মানুষ যারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে তাদের জালও ফেলতে পারছে না সাগরে। তাই এক মহা দুর্ভিক্ষ পার করছে দ্বীপবাসী।
তবে সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষেরা বলছেন, পর্যটন ব্যবসার সময় সীমিত করার সুবাদে প্রাণ-প্রকৃতি ফিরে আসার যে গাল-গল্প প্রচার করা হচ্ছে তা মোটেও সত্য নয়। তাদের দাবী, এমনিতেই বর্ষা মৌসুমের আগে থেইে প্রকৃতি তার নিজ চরিত্রে ফিরে যায়। তাদের দাবী, বর্তমান সরকার সুকৌশলে দ্বীপের মানুষকে উদ্বাস্তু করার পায়তারা শুরু করেছে। জীবিকার সংস্থান না করে এমন সিদ্ধান্তকে হটকারী বলছেন তারা।
এ বিষয়ে কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন শাহীন মজিদ জানান, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে পর্যটন ব্যবসা সীমিত করার খড়গ দুর্ভিক্ষের মুখে ঠেলে দিয়েছে দ্বীপবাসী। যদিও কোস্টগার্ড বলছে, বিকল্প কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে তারা নিজেরা উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সরকারকেও পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন।
উল্লেখ্য শুধু দ্বীপের মানুষের কর্মের সংকট নয়, যোগাযোগের সংকটও বিষিয়ে তুলেছে তাদের।টেকনাফ থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের বাড়তি বাড়াবাড়ির মুখে পড়তে হয় তাদের। ফলে চারদিকে ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছে।