
মোঃ তারেক রহমান মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নে চাল ক্রয়কে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘ঘুঘু’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ চাল সংগ্রহ করে আসছেন। এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া এবং কথিত আটকের ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী বা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় চাল সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। চালগুলোর উৎস কী, কার কাছ থেকে কী দামে কেনা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে তা কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছে—এসব তথ্য স্পষ্ট নয়। ফলে পুরো প্রক্রিয়ার বৈধতা এবং চালের প্রকৃত গন্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বড় ধরনের সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, চালের এই অবৈধ বা রহস্যজনক বেচাকেনার সঙ্গে কোনো সরকারি খাদ্য কর্মসূচি (যেমন—ভিজিডি, ওএমএস বা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি) কিংবা সরকারি সরবরাহ ব্যবস্থার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। চাল সংগ্রহ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন বা সরকারি নির্দেশনাবলী লঙ্ঘন করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চেয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর একাংশ জানান, এর আগেও চাল সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হয়েছে। ‘ঘুঘু’ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আটক করেছিল বলেও এলাকায় গুঞ্জন ছিল। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা প্রশাসনিক বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বারবার অভিযোগ উঠলেও কেন স্থায়ী তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
চাল ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, চালের সঠিক মালিকানা, উৎস, ক্রয়-বিক্রয়ের মেমো এবং সরবরাহের গন্তব্য যাচাই করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।
তবে স্বাধীন কোনো তদন্তের ফলাফল না থাকায় এবং অভিযোগের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কাউকে নিশ্চিতভাবে দোষী সাব্যস্ত করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ‘ঘুঘু’ নামের ওই ব্যক্তির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন কিংবা খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য মেলেনি।
স্থানীয়দের জোর দাবি, অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে আসল ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। অভিযোগ সত্য হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, আর ভিত্তিহীন হলে তা-ও যেন প্রশাসনিকভাবে স্পষ্ট করা হয়।