
সুমন চন্দ্র দে, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের মহেশখালীর বড় মহেশখালীতে চোর সন্দেহে ফয়সাল (৩২) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে উপজেলার বড় মহেশখালীর নতুন বাজার এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফয়সাল বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ফকিরাঘোনা এলাকার নুরুল আলম বাদশার ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নুরুল আলম বাদশা জানান, সকালে কেফায়েত উল্লাহ ও তার দলবল নিয়ে আমার ছেলেকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে, পিঠের উপর ইট চাপা দিয়ে, বেধর মারধর করে মেরে ফেলেছে। তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করেন।
ফয়সালের বোন বলেন, আমার ভাইকে প্রচুর মেরেছে। আমার ভাই খাওয়ার জন্য একটু পানি চেয়েও পাইনি। আমার ভাইকে ওরা মেরে ফেলল।
স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার ভোররাতে বড় মহেশখালী এলাকার মৌলভী কেফায়েত উল্লাহর বাড়িতে চুরির অভিযোগে ফয়সালকে আটক করা হয়। পরে তাকে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় খুঁটির সঙ্গে বাঁধা থাকার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সদস্যরা।
পরে তাকে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
‘চোর’ বললেন ইউপি সদস্য-
ঘটনাটি নিয়ে বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী আকবর নিহত ফয়সালকে ‘চোর’ হিসেবে উল্লেখ করে বক্তব্য দিয়েছেন। তার বক্তব্যে ফয়সালের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগের বিষয়টি সামনে এলেও, তিনি কীভাবে এবং কার হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন—এ নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, স্থানীয়দের কাছে প্রশ্ন উঠেছে—চুরির অভিযোগ সত্য হলেও একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করার অধিকার কারও আছে কি না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।
মহেশখালী থানা সুত্রে জানা যায়, নিহত ফয়সালের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে পুলিশি তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান।